০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সমর্থন মোদীর

নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ভারতের পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৬ মে, সোমবার, লুম্বিনিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় এমন আশ্বাস দেন মোদী। পরবর্তীতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর।

এক বিবৃতিতে তারা জানায়, দুই প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, যা উত্পাদন প্রকল্প, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ বাণিজ্যের উন্নয়ন এর মতো বিষয়াদি কভার করে।

পরবর্তীতে এক টুইট বার্তায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়টি জানান মোদী নিজেও। মোদী লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী @শেরবিদেউবার সাথে আজকের বৈঠকটি চমৎকার ছিল। আমরা ভারত ও নেপালের মধ্যে সম্পর্কের সম্পূর্ণ পরিসর নিয়ে আলোচনা করেছি। বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা সহযোগিতাকে বৈচিত্র্যময় ও গভীর করবে।”

জানা গিয়েছে, নেপালে পশ্চিম সেতি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উন্নয়নে ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দেউবা। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও সম্প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছে ভারত ও নেপাল।

এর আগে চার দিনের সফরে সোমবার (১৬ মে) নেপালে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২০ সালে সীমান্ত বিরোধের কারণে দু’দেশের সম্পর্কে কিছুটা ছেদ পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সম্পর্ক মেরামত করতেই নরেন্দ্র মোদীর এ সফর।

জানা গেছে, বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে লুম্বিনিতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়েছিল বলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্রতম স্থানগুলোর মধ্যে একটি এই লুম্বিনি।

নরেন্দ্র মোদী ও তার সফর সঙ্গীরা উত্তর প্রদেশের কুশিনগর থেকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে নেপালে পৌঁছান। লুম্বিনিতে পৌঁছানোর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা, তার স্ত্রী আরজু দেউবা এবং নেপালের একাধিক মন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

এরপর, লুম্বিনী মঠে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর বৌদ্ধ কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। মূলত, বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণের লক্ষ্যে নেপাল সরকার লুম্বিনী মঠে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর বৌদ্ধ কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ সেন্টার তৈরি করছে। ভারত এই সেন্টার নির্মাণে আর্থিক সাহায্য করবে।

হেরিটেজ সেন্টারের উদ্বোধনের পর মায়াদেবী মন্দিরে পুজোও দেন নরেন্দ্র মোদী। মায়া দেবী মন্দিরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি ছবি শেয়ার করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক টুইট বার্তায় লিখেছে, ‘বন্ধুত্বের চিরন্তন বন্ধন…।’

২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত নেপালে পাঁচবার সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সফরকালে তিনি লুম্বিনি ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট আয়োজিত বুদ্ধ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন বলে জানা গেছে।

এই সফরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা প্রসারিত করার জন্য আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও নেপালি প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। জানা গেছে, জলবিদ্যুৎসহ আরও বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক ইস্যুতে আলোচনা করবেন তারা। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

 

ট্যাগ:

নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সমর্থন মোদীর

প্রকাশ: ০৪:০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মে ২০২২

নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ভারতের পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৬ মে, সোমবার, লুম্বিনিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় এমন আশ্বাস দেন মোদী। পরবর্তীতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর।

এক বিবৃতিতে তারা জানায়, দুই প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, যা উত্পাদন প্রকল্প, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ বাণিজ্যের উন্নয়ন এর মতো বিষয়াদি কভার করে।

পরবর্তীতে এক টুইট বার্তায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়টি জানান মোদী নিজেও। মোদী লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী @শেরবিদেউবার সাথে আজকের বৈঠকটি চমৎকার ছিল। আমরা ভারত ও নেপালের মধ্যে সম্পর্কের সম্পূর্ণ পরিসর নিয়ে আলোচনা করেছি। বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা সহযোগিতাকে বৈচিত্র্যময় ও গভীর করবে।”

জানা গিয়েছে, নেপালে পশ্চিম সেতি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উন্নয়নে ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দেউবা। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও সম্প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছে ভারত ও নেপাল।

এর আগে চার দিনের সফরে সোমবার (১৬ মে) নেপালে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২০ সালে সীমান্ত বিরোধের কারণে দু’দেশের সম্পর্কে কিছুটা ছেদ পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সম্পর্ক মেরামত করতেই নরেন্দ্র মোদীর এ সফর।

জানা গেছে, বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে লুম্বিনিতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়েছিল বলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্রতম স্থানগুলোর মধ্যে একটি এই লুম্বিনি।

নরেন্দ্র মোদী ও তার সফর সঙ্গীরা উত্তর প্রদেশের কুশিনগর থেকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে নেপালে পৌঁছান। লুম্বিনিতে পৌঁছানোর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা, তার স্ত্রী আরজু দেউবা এবং নেপালের একাধিক মন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

এরপর, লুম্বিনী মঠে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর বৌদ্ধ কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। মূলত, বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণের লক্ষ্যে নেপাল সরকার লুম্বিনী মঠে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর বৌদ্ধ কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ সেন্টার তৈরি করছে। ভারত এই সেন্টার নির্মাণে আর্থিক সাহায্য করবে।

হেরিটেজ সেন্টারের উদ্বোধনের পর মায়াদেবী মন্দিরে পুজোও দেন নরেন্দ্র মোদী। মায়া দেবী মন্দিরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি ছবি শেয়ার করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক টুইট বার্তায় লিখেছে, ‘বন্ধুত্বের চিরন্তন বন্ধন…।’

২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত নেপালে পাঁচবার সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সফরকালে তিনি লুম্বিনি ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট আয়োজিত বুদ্ধ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন বলে জানা গেছে।

এই সফরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা প্রসারিত করার জন্য আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও নেপালি প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। জানা গেছে, জলবিদ্যুৎসহ আরও বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক ইস্যুতে আলোচনা করবেন তারা। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক