০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কোবিন্দের সেন্ট ভিনসেন্ট-গ্রেনাডাইন যাত্রা

প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্যারিবীয় অঞ্চলের রাষ্ট্র সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনস গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। গত ১৮ মে, তিনদিনের সফরে দেশটিতে পৌঁছান তিনি। সফরকালে দেশটির রাষ্ট্রপতি গভর্নর-জেনারেল ডেম সুসান ডুগান এবং প্রধানমন্ত্রী রাল্ফ গনসালভেসের সাথে বৈঠক করেন তিনি।

এসময়, ভারতের সাথে ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনস এর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধিকল্পে মতবিনিময় করেন নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীতে তথ্যটি নিশ্চিত করে ভারতের রাষ্ট্রপতির সচিবালয়। জানা গিয়েছে, তথ্য প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন এবং সংস্কৃতির পাশাপাশি বহুপাক্ষিক ফোরামে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা।

একই সাথে, ট্যাক্স সংগ্রহে তথ্য ও সহায়তা বিনিময়ের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করার বিষয়েও আলোচনা করেন তারা। পাশাপাশি, পুরানো ক্যাল্ডার কমিউনিটি সেন্টারের সংস্কারের জন্য ভারতীয় অনুদান সহায়তার কথাও তোলেন কোবিন্দ।

ভারতের রাষ্ট্রপতির সচিবালয় জানিয়েছে, শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ করে কিংসটাউনের বোটানিক্যাল গার্ডেনে যান কোবিন্দ। সেখানে একটি ভারতীয় সাদা চন্দনের চারা রোপণ করেন তিনি এবং ভিনসেন্টিয়ান এবং ভারতীয় সংস্কৃতির মিশ্রণে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখেছিলেন।

গতকাল, সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনস হাউস অ্যাসেম্বলির একটি বিশেষ অধিবেশনে ভাষণও দেন কোবিন্দ। সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি ভারতের ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস এবং সবকা প্রয়াস’ নীতির উপর জোর দিয়েছিলেন।

এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী গনসালভেস ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্য এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে, রাষ্ট্রপতি ক্যালডার রোডের নাম পরিবর্তন করে ‘ইন্ডিয়া ড্রাইভ’ রাখেন।

এর আগে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জ্যামাইকা গিয়েছিলেন কোবিন্দ। সেসময়, জ্যামাইকার শিক্ষা ও অর্থনৈতিক বিকাশে ভারত সার্বিক সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছিলেন তিনি। নিজ বক্তব্যে কোবিন্দ বলেন, “ভারত জ্যামাইকার সাথে অংশীদারিত্ব করতে এবং দেশটির প্রযুক্তিগত দক্ষতা, জ্ঞান এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে প্রস্তুত। এটি জ্যামাইকার শিক্ষা এবং ব্যবসায় পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে। জ্যামাইকার শীর্ষ ব্যবসা সমূহ ইতিমধ্যেই সফ্টওয়্যার কেন্দ্রিক হতে আরম্ভ করেছে। ভারত ভিত্তিক প্রযুক্তি সংস্থা থেকে তারা অনায়াসে প্রযুক্তিগত সহায়তা পাবে।”

তিনি বলেন, “গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার প্রতি ভারতীয় ও জামাইকানদের অঙ্গীকার আমাদের একত্রিত করে। পাশাপাশি, বিপুল সংখ্যায় এখানে অবস্থানরত ভারতীয় প্রবাসীদের কারণেও আমরা ঘনিষ্ঠ।”

উল্লেখ্য, প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে গত ১৫মে জ্যামাইকাতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। জ্যামাইকার জাতীয় বীর মার্কাস গার্ভির স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে সফর শুরু করেন তিনি।

পরবর্তীতে জ্যামাইকার রাষ্ট্রপতি গভর্নর জেনারেল প্যাট্রিক অ্যালেনের সাথে একান্ত ও প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হোন তিনি। অ্যালেনের সাথে আলোচনাকালেও ভারতীয় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বলেছিলেন, “করোনা মহামারীতে সৃষ্ট ব্যাঘাত সত্ত্বেও ক্রমশ বাড়ছে ভারত-জ্যামাইকার দ্বিপাক্ষিক আর্থ-বাণিজ্যিক সম্পর্ক। তবে, এই সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে।”

পরবর্তীতে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সচিবালয় জানায়, আইটি সক্ষম পরিষেবা, চিকিৎসা ও ফার্মা সেক্টর, রেল খাত ও পরিবহণ সেবা, শিক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, পর্যটন এবং আতিথেয়তা শিল্প, কৃষি এবং অবকাঠামো প্রকল্পের মতো খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ানোর কথা বলেছেন ভারতীয় রাষ্ট্রপতি।

জ্যামাইকার পার্লামেন্টের দুই কক্ষের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ প্রদান এবং দেশটির রাষ্ট্রপতির সাথে বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হলনেস এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

কোবিন্দের সেন্ট ভিনসেন্ট-গ্রেনাডাইন যাত্রা

প্রকাশ: ০৯:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মে ২০২২

প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্যারিবীয় অঞ্চলের রাষ্ট্র সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনস গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। গত ১৮ মে, তিনদিনের সফরে দেশটিতে পৌঁছান তিনি। সফরকালে দেশটির রাষ্ট্রপতি গভর্নর-জেনারেল ডেম সুসান ডুগান এবং প্রধানমন্ত্রী রাল্ফ গনসালভেসের সাথে বৈঠক করেন তিনি।

এসময়, ভারতের সাথে ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনস এর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধিকল্পে মতবিনিময় করেন নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীতে তথ্যটি নিশ্চিত করে ভারতের রাষ্ট্রপতির সচিবালয়। জানা গিয়েছে, তথ্য প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন এবং সংস্কৃতির পাশাপাশি বহুপাক্ষিক ফোরামে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা।

একই সাথে, ট্যাক্স সংগ্রহে তথ্য ও সহায়তা বিনিময়ের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করার বিষয়েও আলোচনা করেন তারা। পাশাপাশি, পুরানো ক্যাল্ডার কমিউনিটি সেন্টারের সংস্কারের জন্য ভারতীয় অনুদান সহায়তার কথাও তোলেন কোবিন্দ।

ভারতের রাষ্ট্রপতির সচিবালয় জানিয়েছে, শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ করে কিংসটাউনের বোটানিক্যাল গার্ডেনে যান কোবিন্দ। সেখানে একটি ভারতীয় সাদা চন্দনের চারা রোপণ করেন তিনি এবং ভিনসেন্টিয়ান এবং ভারতীয় সংস্কৃতির মিশ্রণে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখেছিলেন।

গতকাল, সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনস হাউস অ্যাসেম্বলির একটি বিশেষ অধিবেশনে ভাষণও দেন কোবিন্দ। সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি ভারতের ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস এবং সবকা প্রয়াস’ নীতির উপর জোর দিয়েছিলেন।

এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী গনসালভেস ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্য এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে, রাষ্ট্রপতি ক্যালডার রোডের নাম পরিবর্তন করে ‘ইন্ডিয়া ড্রাইভ’ রাখেন।

এর আগে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জ্যামাইকা গিয়েছিলেন কোবিন্দ। সেসময়, জ্যামাইকার শিক্ষা ও অর্থনৈতিক বিকাশে ভারত সার্বিক সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছিলেন তিনি। নিজ বক্তব্যে কোবিন্দ বলেন, “ভারত জ্যামাইকার সাথে অংশীদারিত্ব করতে এবং দেশটির প্রযুক্তিগত দক্ষতা, জ্ঞান এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে প্রস্তুত। এটি জ্যামাইকার শিক্ষা এবং ব্যবসায় পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে। জ্যামাইকার শীর্ষ ব্যবসা সমূহ ইতিমধ্যেই সফ্টওয়্যার কেন্দ্রিক হতে আরম্ভ করেছে। ভারত ভিত্তিক প্রযুক্তি সংস্থা থেকে তারা অনায়াসে প্রযুক্তিগত সহায়তা পাবে।”

তিনি বলেন, “গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার প্রতি ভারতীয় ও জামাইকানদের অঙ্গীকার আমাদের একত্রিত করে। পাশাপাশি, বিপুল সংখ্যায় এখানে অবস্থানরত ভারতীয় প্রবাসীদের কারণেও আমরা ঘনিষ্ঠ।”

উল্লেখ্য, প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে গত ১৫মে জ্যামাইকাতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। জ্যামাইকার জাতীয় বীর মার্কাস গার্ভির স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে সফর শুরু করেন তিনি।

পরবর্তীতে জ্যামাইকার রাষ্ট্রপতি গভর্নর জেনারেল প্যাট্রিক অ্যালেনের সাথে একান্ত ও প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হোন তিনি। অ্যালেনের সাথে আলোচনাকালেও ভারতীয় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বলেছিলেন, “করোনা মহামারীতে সৃষ্ট ব্যাঘাত সত্ত্বেও ক্রমশ বাড়ছে ভারত-জ্যামাইকার দ্বিপাক্ষিক আর্থ-বাণিজ্যিক সম্পর্ক। তবে, এই সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে।”

পরবর্তীতে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সচিবালয় জানায়, আইটি সক্ষম পরিষেবা, চিকিৎসা ও ফার্মা সেক্টর, রেল খাত ও পরিবহণ সেবা, শিক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, পর্যটন এবং আতিথেয়তা শিল্প, কৃষি এবং অবকাঠামো প্রকল্পের মতো খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ানোর কথা বলেছেন ভারতীয় রাষ্ট্রপতি।

জ্যামাইকার পার্লামেন্টের দুই কক্ষের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ প্রদান এবং দেশটির রাষ্ট্রপতির সাথে বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হলনেস এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক