০৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শ্রী রামায়ণ যাত্রা: চালু হল ভারত গৌরব ট্যুরিস্ট ট্রেন

ভারতীয় রেলের নয়া উদ্যোগ। এবার একটি ট্রেনে চেপেই ঘুরে আসা যাবে ভারত ও নেপালের বেশ কিছু অংশ। রামায়ণে যেসব জায়গার কথা লেখা হয়েছে, সেই সব জায়গায় ঘুরবে এই ট্রেন। সীমান্ত অতিক্রম করে প্রথমবার নেপালে যাবে কোনও ভারতীয় ট্রেন।

ভগবান রামের স্মৃতি বিজড়িত স্থানসমূহে ভ্রমণ করা ট্রেনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভারত গৌরব’। মঙ্গলবারই পাঁচশো জনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এই বিশেষ ট্রেন। উদ্বোধনী যাত্রার সূচনা করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

ট্রেনের প্রথম গন্তব্য রামের জন্মস্থান অযোধ্যা। পর্যটকরা সুযোগ পাবেন শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির ও হনুমান মন্দিরে যাওয়ার। পাশাপাশি রামের অনুজ ভরতের মন্দির, যা নন্দীগ্রামে অবস্থিত, সেই ভরত মন্দিরেও নিয়ে যাওয়া হবে পর্যটকদের। উত্তরপ্রদেশ পর্ব শেষ করে ট্রেন পৌঁছে যাবে বিহারের বক্সারে। মহর্ষি বিশ্বামিত্রের আশ্রম ঘুরে রামরেখা ঘাটে গঙ্গাস্নান সেরে পর্যটকরা এরপর পৌঁছে যাবেন সীতার জন্মস্থান সীতামারিতে।

তারপরেই ভারতের সীমানা পেরিয়ে নেপালের জনকপুরে পৌঁছে যাবে এই ট্রেন। জনকপুরের রাম-জানকী মন্দির দর্শন করে সেখানকার হোটেলে একরাত কাটিয়ে পরের দিন ফের ভারতে ফিরে আসবে ট্রেন। গন্তব্য বারাণসী। কাশীতে সীতামন্দির দেখার পাশাপাশি প্রয়াগ, শ্রিংভেরপুর ও চিত্রকূটে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হবে সড়কপথে। রাতে রাখা হবে হোটেলে।

তারপরেই ট্রেন পৌঁছে যাবে সোজা নাসিকে। সেখানে ত্রম্বকেশ্বরের মন্দির ও পঞ্চবটী দেখার পরে এরপর পর্যটকদের গন্তব্য হাম্পি, কিষ্কিন্ধ্যা। সেখানে হনুমানের জন্মস্থান ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থান ঘুরে দেখবেন তাঁরা।

আরও দক্ষিণে গিয়ে কাঞ্চিপুরমে থামবে ট্রেন। পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হবে শিব কাঞ্চি, বিষ্ণু কাঞ্চি ও কামাক্ষী মন্দির। সবশেষে তেলেঙ্গানার ভদ্রচলমে পৌঁছবে ট্রেন। ‘দক্ষিণের অযোধ্যা’ বলা হয় এই স্থানকে। এরপর ট্রেন ফিরবে দিল্লিতে।

একসঙ্গে ছ’শো জন যাত্রীকে নিয়ে চলতে পারে এই ট্রেন। ভারত ও নেপালের নানা স্থানে মোট আঠেরো দিন ধরে ঘোরা যাবে এই ট্রেনে। যাত্রার সঙ্গে আনুষঙ্গিক সমস্ত খরচ মিলিয়ে আনুমানিক ৬২৩৭০ টাকা খরচ হবে বলে জানা গিয়েছে।

ট্রেনটিতে মোট এগারোটি বগি রয়েছে। প্রত্যেকটি বগিতেই কেবলমাত্র থ্রি টায়ার এসি কোচ থাকবে। বিপদের আশঙ্কা এড়াতে ট্রেনের প্রতিটি কোচে থাকবে সিসিটিভি। সঙ্গে থাকবেন নিরাপত্তারক্ষীও। পছন্দমতো খাবারের জন্য থাকবে প্যান্ট্রি কারের সুবিধাও। ভারতের নানা প্রান্তের সংস্কৃতির ছবি দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে ট্রেনের বগিসমূহ। এই সাজিয়ে তোলার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রাইড অফ ইন্ডিয়া’। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

শ্রী রামায়ণ যাত্রা: চালু হল ভারত গৌরব ট্যুরিস্ট ট্রেন

প্রকাশ: ০৯:১৩:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুন ২০২২

ভারতীয় রেলের নয়া উদ্যোগ। এবার একটি ট্রেনে চেপেই ঘুরে আসা যাবে ভারত ও নেপালের বেশ কিছু অংশ। রামায়ণে যেসব জায়গার কথা লেখা হয়েছে, সেই সব জায়গায় ঘুরবে এই ট্রেন। সীমান্ত অতিক্রম করে প্রথমবার নেপালে যাবে কোনও ভারতীয় ট্রেন।

ভগবান রামের স্মৃতি বিজড়িত স্থানসমূহে ভ্রমণ করা ট্রেনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভারত গৌরব’। মঙ্গলবারই পাঁচশো জনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এই বিশেষ ট্রেন। উদ্বোধনী যাত্রার সূচনা করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

ট্রেনের প্রথম গন্তব্য রামের জন্মস্থান অযোধ্যা। পর্যটকরা সুযোগ পাবেন শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির ও হনুমান মন্দিরে যাওয়ার। পাশাপাশি রামের অনুজ ভরতের মন্দির, যা নন্দীগ্রামে অবস্থিত, সেই ভরত মন্দিরেও নিয়ে যাওয়া হবে পর্যটকদের। উত্তরপ্রদেশ পর্ব শেষ করে ট্রেন পৌঁছে যাবে বিহারের বক্সারে। মহর্ষি বিশ্বামিত্রের আশ্রম ঘুরে রামরেখা ঘাটে গঙ্গাস্নান সেরে পর্যটকরা এরপর পৌঁছে যাবেন সীতার জন্মস্থান সীতামারিতে।

তারপরেই ভারতের সীমানা পেরিয়ে নেপালের জনকপুরে পৌঁছে যাবে এই ট্রেন। জনকপুরের রাম-জানকী মন্দির দর্শন করে সেখানকার হোটেলে একরাত কাটিয়ে পরের দিন ফের ভারতে ফিরে আসবে ট্রেন। গন্তব্য বারাণসী। কাশীতে সীতামন্দির দেখার পাশাপাশি প্রয়াগ, শ্রিংভেরপুর ও চিত্রকূটে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হবে সড়কপথে। রাতে রাখা হবে হোটেলে।

তারপরেই ট্রেন পৌঁছে যাবে সোজা নাসিকে। সেখানে ত্রম্বকেশ্বরের মন্দির ও পঞ্চবটী দেখার পরে এরপর পর্যটকদের গন্তব্য হাম্পি, কিষ্কিন্ধ্যা। সেখানে হনুমানের জন্মস্থান ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থান ঘুরে দেখবেন তাঁরা।

আরও দক্ষিণে গিয়ে কাঞ্চিপুরমে থামবে ট্রেন। পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হবে শিব কাঞ্চি, বিষ্ণু কাঞ্চি ও কামাক্ষী মন্দির। সবশেষে তেলেঙ্গানার ভদ্রচলমে পৌঁছবে ট্রেন। ‘দক্ষিণের অযোধ্যা’ বলা হয় এই স্থানকে। এরপর ট্রেন ফিরবে দিল্লিতে।

একসঙ্গে ছ’শো জন যাত্রীকে নিয়ে চলতে পারে এই ট্রেন। ভারত ও নেপালের নানা স্থানে মোট আঠেরো দিন ধরে ঘোরা যাবে এই ট্রেনে। যাত্রার সঙ্গে আনুষঙ্গিক সমস্ত খরচ মিলিয়ে আনুমানিক ৬২৩৭০ টাকা খরচ হবে বলে জানা গিয়েছে।

ট্রেনটিতে মোট এগারোটি বগি রয়েছে। প্রত্যেকটি বগিতেই কেবলমাত্র থ্রি টায়ার এসি কোচ থাকবে। বিপদের আশঙ্কা এড়াতে ট্রেনের প্রতিটি কোচে থাকবে সিসিটিভি। সঙ্গে থাকবেন নিরাপত্তারক্ষীও। পছন্দমতো খাবারের জন্য থাকবে প্যান্ট্রি কারের সুবিধাও। ভারতের নানা প্রান্তের সংস্কৃতির ছবি দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে ট্রেনের বগিসমূহ। এই সাজিয়ে তোলার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রাইড অফ ইন্ডিয়া’। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক