০৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের ডাক ভারত-অস্ট্রেলিয়ার

ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরালো করণ এবং ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠাকল্পে আলোচনা হয়েছে। বুধবার, এ লক্ষ্যে নয়াদিল্লীতে আলোচনায় বসেন ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস।

বৈঠকের পর উভয় মন্ত্রীই আলোচনাকে ফলপ্রসূ এবং চমৎকার বলে আখ্যা দেন। একই সাথে, উভয় নেতৃবৃন্দই দু দেশের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কার্যক্রম পর্যালোচনা করেছেন, যা কোভিড-১৯ মহামারীর চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আরও সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্র তৈরী করছে।

বৈঠকের পর এক টুইটবার্তায় রাজনাথ সিং বলেন, “আজ নয়াদিল্লিতে অস্ট্রেলিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিঃ রিচার্ড মার্লেসের সাথে চমৎকার আলোচনা হয়েছে। আমরা উভয় দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতার সম্পূর্ণ পরিসর পর্যালোচনা করেছি এবং এটিকে আরও গভীর করার জন্য পথ প্রশস্ত করেছি।”

এছাড়া, বৈঠকের বিষয়ে ট্রাই করেছেন অজি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্লেস নিজেও। তিনি লিখেছেন, “ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাথে একটি উষ্ণ স্বাগত এবং চমৎকার প্রথম সাক্ষাত হলো। এটি আমাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতেও অনেক সহায়ক হবে।”

তিনি আরও লিখেছেন, “আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব এবং একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ এবং স্থিতিস্থাপক ইন্দো-প্যাসিফিক নিশ্চিত করতে আমাদের ভাগ করা উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

বৈঠকের পর দেয়া এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় নেতৃবৃন্দ পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া, অভিন্ন স্বার্থ এবং ভাগ করা মূল্যবোধ, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের ভিত্তিতে ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাস্তবায়নের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, “তারা দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা অনুশীলন এবং বিনিময়ের ক্রমবর্ধমান বৈচিত্র্য এবং ফ্রিকোয়েন্সিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ভারত-অস্ট্রেলিয়া মিউচুয়াল লজিস্টিক সাপোর্ট অ্যারেঞ্জমেন্টের মাধ্যমে অপারেশনাল ব্যস্ততা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।”

উভয় মন্ত্রী ভারত-অস্ট্রেলিয়া জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি)-কে প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং মেটেরিয়াল কো-অপারেশনে সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেটি এই বছরের শেষে অস্ট্রেলিয়ায় মিলিত হবে।

এর আগে এক ফেসবুক পোস্টে মার্লেস জানিয়েছিলেন, “ভারত হল অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা অংশীদার এবং সরকার ইন্দো-প্যাসিফিক জুড়ে আমাদের অংশীদারদের সাথে ঐতিহাসিকভাবে গভীর সম্পৃক্ততা পুনরুজ্জীবিত করার দিকে মনোনিবেশ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “একটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থিতিস্থাপক ইন্দো-প্যাসিফিকের সমর্থনে ভারতের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আমরা আগ্রহী। আইনের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক নীতিমালা, যা কয়েক দশক ধরে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি এনেছে, তা চাপের মধ্যে রয়েছে, কারণ আমরা ভূ-কৌশলগত শৃঙ্খলার পরিবর্তনের মুখোমুখি।”

এদিকে, মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং সম্ভব হলে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাথেও সাক্ষাত করতে পারেন মার্লেস। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

 

ট্যাগ:

প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের ডাক ভারত-অস্ট্রেলিয়ার

প্রকাশ: ০৯:২৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুন ২০২২

ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরালো করণ এবং ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠাকল্পে আলোচনা হয়েছে। বুধবার, এ লক্ষ্যে নয়াদিল্লীতে আলোচনায় বসেন ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস।

বৈঠকের পর উভয় মন্ত্রীই আলোচনাকে ফলপ্রসূ এবং চমৎকার বলে আখ্যা দেন। একই সাথে, উভয় নেতৃবৃন্দই দু দেশের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কার্যক্রম পর্যালোচনা করেছেন, যা কোভিড-১৯ মহামারীর চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আরও সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্র তৈরী করছে।

বৈঠকের পর এক টুইটবার্তায় রাজনাথ সিং বলেন, “আজ নয়াদিল্লিতে অস্ট্রেলিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিঃ রিচার্ড মার্লেসের সাথে চমৎকার আলোচনা হয়েছে। আমরা উভয় দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতার সম্পূর্ণ পরিসর পর্যালোচনা করেছি এবং এটিকে আরও গভীর করার জন্য পথ প্রশস্ত করেছি।”

এছাড়া, বৈঠকের বিষয়ে ট্রাই করেছেন অজি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্লেস নিজেও। তিনি লিখেছেন, “ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাথে একটি উষ্ণ স্বাগত এবং চমৎকার প্রথম সাক্ষাত হলো। এটি আমাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতেও অনেক সহায়ক হবে।”

তিনি আরও লিখেছেন, “আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব এবং একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ এবং স্থিতিস্থাপক ইন্দো-প্যাসিফিক নিশ্চিত করতে আমাদের ভাগ করা উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

বৈঠকের পর দেয়া এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় নেতৃবৃন্দ পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া, অভিন্ন স্বার্থ এবং ভাগ করা মূল্যবোধ, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের ভিত্তিতে ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাস্তবায়নের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, “তারা দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা অনুশীলন এবং বিনিময়ের ক্রমবর্ধমান বৈচিত্র্য এবং ফ্রিকোয়েন্সিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ভারত-অস্ট্রেলিয়া মিউচুয়াল লজিস্টিক সাপোর্ট অ্যারেঞ্জমেন্টের মাধ্যমে অপারেশনাল ব্যস্ততা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।”

উভয় মন্ত্রী ভারত-অস্ট্রেলিয়া জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি)-কে প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং মেটেরিয়াল কো-অপারেশনে সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেটি এই বছরের শেষে অস্ট্রেলিয়ায় মিলিত হবে।

এর আগে এক ফেসবুক পোস্টে মার্লেস জানিয়েছিলেন, “ভারত হল অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা অংশীদার এবং সরকার ইন্দো-প্যাসিফিক জুড়ে আমাদের অংশীদারদের সাথে ঐতিহাসিকভাবে গভীর সম্পৃক্ততা পুনরুজ্জীবিত করার দিকে মনোনিবেশ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “একটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থিতিস্থাপক ইন্দো-প্যাসিফিকের সমর্থনে ভারতের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আমরা আগ্রহী। আইনের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক নীতিমালা, যা কয়েক দশক ধরে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি এনেছে, তা চাপের মধ্যে রয়েছে, কারণ আমরা ভূ-কৌশলগত শৃঙ্খলার পরিবর্তনের মুখোমুখি।”

এদিকে, মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং সম্ভব হলে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাথেও সাক্ষাত করতে পারেন মার্লেস। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক