০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় বিমানবাহিনীতে দেশীয় লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার

ভারতে ‘প্রচন্ড’ নামে দেশীয়ভাবে তৈরি লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার (এলসিএইচ) এর প্রথম চালান ভারতীয় বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘প্রচন্ড’ নামের ওই ‘লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার’ হিমালয়ের উচ্চতাতেও অনায়াসে শত্রুপক্ষকে আঘাত করার ক্ষমতা রাখে।

সোমবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতে রাজস্থানের যোধপুরে লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টারকে বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভারতে তৈরি ১০টি লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার শামিল হওয়ার সাথে সাথে ভারতীয় বিমান বাহিনীর শক্তি আরো বাড়লো।

এই উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, নবনিযুক্ত চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) অনিল চৌহান, ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল ভিআর চৌধুরী ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “দেশের প্রথম স্বদেশী লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার আজ ভারতীয় বিমান বাহিনীতে আসছে। প্রচন্ড শক্তি, প্রচন্ড বেগ এবং শক্তিশালী স্ট্রাইক সক্ষমতার সাথে এই লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টারের আবির্ভাব আমাদের বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে স্বনির্ভরতার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।”

ঠিক কী কারণে লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য গেম চেঞ্জার হিসেবে ভূমিকা রাখবে, সে বিষয়ে ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্কের নিজস্ব বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসা দশ কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:

১। এটির শক্তিশালী স্থল আক্রমণ এবং বায়বীয় যুদ্ধ ক্ষমতা রয়েছে।

২। হেলিকপ্টারটির আধুনিক স্টিলথ বৈশিষ্ট্য, শক্তিশালী বর্ম সুরক্ষা এবং রাতের বেলা আক্রমণের ভয়ানক ক্ষমতা রয়েছে।

৩। অনবোর্ড উন্নত নেভিগেশন সিস্টেম, সম্মুখ যুদ্ধের জন্য তৈরি বন্দুক এবং শক্তিশালী এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এলসিএইচকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী করে তোলে।

৪। এর বহুমুখীতা এবং আক্রমণাত্মক সম্ভাবনা বিশ্বব্যাপী পরিচালিত বেশিরভাগ আক্রমণকারী হেলিকপ্টারের তুলনায় সমান বা ভাল।

৫। সুউচ্চ উচ্চতার ভূখণ্ড থেকে পরিচালনা করতে এবং উচ্চ উচ্চতায় লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম, হেলিকপ্টারটি আইএএফ-এর অস্ত্রাগারে একটি শক্তিশালী সংযোজন।

৬। এলসিএইচ আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা এবং অপারেশনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় মানের প্যারামিটার পূরণ করে।

৭। এটি আত্মরক্ষা করতে, বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ বহন করতে এবং দ্রুত মাঠে পৌঁছে দিতে সক্ষম।

৮. এই বহুমুখী হেলিকপ্টার পুরোপুরি বিভিন্ন ভূখণ্ডে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা পূরণ করে; প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মতে, এলসিএইচ আমাদের সেনাবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর জন্য একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্ম।

৯। এলসিএইচকে আইএএফের সদ্য উত্থিত ১৪৩ নম্বর হেলিকপ্টার ইউনিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

১০। এয়ার মার্শালের মতে, ইউনিটের কর্মীদের নির্বাচন, অর্থাৎ যারা এলসিএইচ পরিচালনা করবে, তাদেরকে পেশাদার দক্ষতার উপর ভিত্তি করে নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ে ইউনিটটির কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

ভারতীয় বিমানবাহিনীতে দেশীয় লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার

প্রকাশ: ১১:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২

ভারতে ‘প্রচন্ড’ নামে দেশীয়ভাবে তৈরি লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার (এলসিএইচ) এর প্রথম চালান ভারতীয় বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘প্রচন্ড’ নামের ওই ‘লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার’ হিমালয়ের উচ্চতাতেও অনায়াসে শত্রুপক্ষকে আঘাত করার ক্ষমতা রাখে।

সোমবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতে রাজস্থানের যোধপুরে লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টারকে বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভারতে তৈরি ১০টি লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার শামিল হওয়ার সাথে সাথে ভারতীয় বিমান বাহিনীর শক্তি আরো বাড়লো।

এই উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, নবনিযুক্ত চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) অনিল চৌহান, ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল ভিআর চৌধুরী ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “দেশের প্রথম স্বদেশী লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার আজ ভারতীয় বিমান বাহিনীতে আসছে। প্রচন্ড শক্তি, প্রচন্ড বেগ এবং শক্তিশালী স্ট্রাইক সক্ষমতার সাথে এই লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টারের আবির্ভাব আমাদের বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে স্বনির্ভরতার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।”

ঠিক কী কারণে লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য গেম চেঞ্জার হিসেবে ভূমিকা রাখবে, সে বিষয়ে ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্কের নিজস্ব বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসা দশ কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:

১। এটির শক্তিশালী স্থল আক্রমণ এবং বায়বীয় যুদ্ধ ক্ষমতা রয়েছে।

২। হেলিকপ্টারটির আধুনিক স্টিলথ বৈশিষ্ট্য, শক্তিশালী বর্ম সুরক্ষা এবং রাতের বেলা আক্রমণের ভয়ানক ক্ষমতা রয়েছে।

৩। অনবোর্ড উন্নত নেভিগেশন সিস্টেম, সম্মুখ যুদ্ধের জন্য তৈরি বন্দুক এবং শক্তিশালী এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এলসিএইচকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী করে তোলে।

৪। এর বহুমুখীতা এবং আক্রমণাত্মক সম্ভাবনা বিশ্বব্যাপী পরিচালিত বেশিরভাগ আক্রমণকারী হেলিকপ্টারের তুলনায় সমান বা ভাল।

৫। সুউচ্চ উচ্চতার ভূখণ্ড থেকে পরিচালনা করতে এবং উচ্চ উচ্চতায় লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম, হেলিকপ্টারটি আইএএফ-এর অস্ত্রাগারে একটি শক্তিশালী সংযোজন।

৬। এলসিএইচ আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা এবং অপারেশনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় মানের প্যারামিটার পূরণ করে।

৭। এটি আত্মরক্ষা করতে, বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ বহন করতে এবং দ্রুত মাঠে পৌঁছে দিতে সক্ষম।

৮. এই বহুমুখী হেলিকপ্টার পুরোপুরি বিভিন্ন ভূখণ্ডে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা পূরণ করে; প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মতে, এলসিএইচ আমাদের সেনাবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর জন্য একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্ম।

৯। এলসিএইচকে আইএএফের সদ্য উত্থিত ১৪৩ নম্বর হেলিকপ্টার ইউনিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

১০। এয়ার মার্শালের মতে, ইউনিটের কর্মীদের নির্বাচন, অর্থাৎ যারা এলসিএইচ পরিচালনা করবে, তাদেরকে পেশাদার দক্ষতার উপর ভিত্তি করে নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ে ইউনিটটির কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক