০২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ভারত-রাশিয়া বার্ষিক বাণিজ্য ৩০ বিলিয়ন ডলারে

জি-২০ সম্মেলনের আগেই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো ছাড়াও আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, দু’দিনের সফরে সোমবার মস্কো গেছেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু করে। তারপর এ নিয়ে মোট চারবার জয়শঙ্কর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন।

বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে ভারত-রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে ভারতের বিদেশমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সহযোগিতার উপর জোর দেন। এবং এই সম্পর্কে একটি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। ভারতের বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন যে কোভিডের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এতে শুধু আর্থিক চাপই বৃদ্ধি পায়নি, সেই সঙ্গে বাণিজ্য ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানান।

বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জয়শঙ্কর। দুটিই যেভাবে বাড়ছে, তা বিশ্বে স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লি-মস্কো এক সঙ্গে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। দুই বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গেও আলোচনা করা হতে পারে এই বৈঠকে।

জয়শংকর বলেছেন, “এখন আমরা এই যুদ্ধের প্রভাবটা টের পাচ্ছি। কিন্তু তাছাড়াও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে বহুদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের সমস্যা রয়েছে। দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে বাধা তৈরি করছে এই সমস্যাগুলো।”

প্রসঙ্গত, ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বহুবার কথা বলেছেন। গত ৪ অক্টোবর জেলেনস্কির সাথে ফোনে শান্তি প্রচেষ্টায় ভারতের ইচ্ছার কথা জানান মোদী। যদিও ভারতের সেই প্রস্তাবে জেলেনস্কি না করে দেন বলে সূত্রের খবর। নয়াদিল্লির মতে, রুশ-ইউক্রেনের মধ্যে তখনই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সফল হওয়া যাবে, যখন কূটনৈতিক সততা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হবে। আর এক্ষেত্রে এখনও অভাব রয়েছে বলে মনে করছে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক। তবে, যুদ্ধের আবহে জয়শঙ্করের এই রুশ সফর বিশেষ ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন কেউ কেউ। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

ভারত-রাশিয়া বার্ষিক বাণিজ্য ৩০ বিলিয়ন ডলারে

প্রকাশ: ০৭:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর ২০২২

জি-২০ সম্মেলনের আগেই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো ছাড়াও আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, দু’দিনের সফরে সোমবার মস্কো গেছেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু করে। তারপর এ নিয়ে মোট চারবার জয়শঙ্কর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন।

বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে ভারত-রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে ভারতের বিদেশমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সহযোগিতার উপর জোর দেন। এবং এই সম্পর্কে একটি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। ভারতের বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন যে কোভিডের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এতে শুধু আর্থিক চাপই বৃদ্ধি পায়নি, সেই সঙ্গে বাণিজ্য ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানান।

বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জয়শঙ্কর। দুটিই যেভাবে বাড়ছে, তা বিশ্বে স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লি-মস্কো এক সঙ্গে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। দুই বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গেও আলোচনা করা হতে পারে এই বৈঠকে।

জয়শংকর বলেছেন, “এখন আমরা এই যুদ্ধের প্রভাবটা টের পাচ্ছি। কিন্তু তাছাড়াও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে বহুদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের সমস্যা রয়েছে। দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে বাধা তৈরি করছে এই সমস্যাগুলো।”

প্রসঙ্গত, ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বহুবার কথা বলেছেন। গত ৪ অক্টোবর জেলেনস্কির সাথে ফোনে শান্তি প্রচেষ্টায় ভারতের ইচ্ছার কথা জানান মোদী। যদিও ভারতের সেই প্রস্তাবে জেলেনস্কি না করে দেন বলে সূত্রের খবর। নয়াদিল্লির মতে, রুশ-ইউক্রেনের মধ্যে তখনই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সফল হওয়া যাবে, যখন কূটনৈতিক সততা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হবে। আর এক্ষেত্রে এখনও অভাব রয়েছে বলে মনে করছে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক। তবে, যুদ্ধের আবহে জয়শঙ্করের এই রুশ সফর বিশেষ ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন কেউ কেউ। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক