০৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নয়া আইরিশ প্রধানমন্ত্রীকে মোদীর শুভেচ্ছা

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক লিও ভারাদকার। সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির এক চুক্তির আওতায় দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন মাইকেল মার্টিন।

তাঁর এ সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, “দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় ভারাদকারকে অভিনন্দন। অর্থনীতির উন্নয়নে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ হয়ে আছি।”

২০২০ সালের জুনের নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী মার্টিন ও লিও ভারাদকারের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে একটি চুক্তি হয়। চুক্তিতে বলা হয়, প্রথম দুই বছরের প্রধানমন্ত্রী হবেন মার্টিন। আর পরবর্তী দুই বছরের লিও ভারাদকার। চুক্তি মতে, শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) পার্লামেন্টের এক ভোটাভুটি হয়। সেখানে ৮৩ এমপি ভারাদকারের পক্ষে ভোট দেন। বিরুদ্ধে ভোট দেন ৬২ জন।

পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট মাইকেল ডি হিগিনসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ৪৩ বছর বয়সী ভারাদকার। সাক্ষাতের পর তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন করেন প্রেসিডেন্ট হিগিনস। আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্টকে ডেইল বলা হয়। এর সদস্যদের বলা হয় তাউঈ। আর প্রধানমন্ত্রীকে বলা হয় তাউঈসিচ।

ব্যক্তিগত জীবনে সমকামী ভারাদকার প্রথমবার আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হন ২০১৭ সালে, মাত্র ৩৮ বছর বয়সে। দায়িত্ব পালন করেন ২০২০ পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর পার্লামেন্টে এক ভাষণে ভারাদকার বলেন, গত ১০০ বছর ধরে আয়ারল্যান্ডের যে অর্জন তার উপর ভিত্তি করে নতুন নতুন অর্জনই তার লক্ষ্য। সেই সঙ্গে নতুন প্রজন্ম ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কী করা দরকার তা নিয়ে কাজ করা।

ইউরোপে একসময় সামাজিকভাবে অত্যন্ত রক্ষণশীল দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল আয়ারল্যান্ড। তবে সমকামী লিও ভারাদকার নিজের নতুন একটা ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হন। আয়াল্যান্ডে তার সমকামীদের ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর পরিচয় ও যৌন জীবনযাপন সেভাবে প্রাধান্য পায়নি।

তবে আইরিশ রাজনীতির শীর্ষে উত্থান নিয়ে বহুবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। এসব খবর প্রধানত তার সমকামিতার বিষয় নিয়ে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবেও রাজনীতিতে বেশ আলোচিত তিনি।

১৯৯০ সাল পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডে সমকামিতা ও বিবাহবিচ্ছেদ অবৈধ ছিল। ২০১৫ সালে মন্ত্রী হিসেবে আইরিশ গণমাধ্যম আরটিতে তিনি একজন সমকামী হিসেবে সাক্ষাৎকার দেন। তিনি বলেন, ‘এটা আমার জন্য মোটেও বড় কিছু নয়। আমি আশা করি, অন্য কারও জন্য এটা বড় কিছু হবে না, হওয়া উচিতও নয়।’ এর কয়েক মাস পর আয়ারল্যান্ডে এক গণভোটের মাধ্যমে সমলিঙ্গের বিয়েকে বৈধতা দেয়া হয়।

লিও ভারাদকার আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে ১৯৭৯ সালের ১৮ জানুয়ারি জন্ম নেন। তাঁর বাবা অশোক ছিলেন মুম্বাইয়ের একজন চিকিৎসক। যুক্তরাজ্যের বার্কশায়ারে কাজ করার সময় লিওর মা আইরিশ সেবিকা মিরিয়ামের সঙ্গে পরিচয় হয় অশোকের। ১৯৭০ সালে আয়ারল্যান্ডে তারা স্থায়ী হন। বাবার পথ ধরে লিও ভারদকারও চিকিৎসক হন।
২০০৭ সালে লিও ২৪ বছর বয়সে কাউন্সিলর হন ও আইরিশ পার্লামেন্টে নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর লিও ভারদকার প্রথমে পরিবহন, পর্যটন ও ক্রীড়ামন্ত্রী এবং পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

নয়া আইরিশ প্রধানমন্ত্রীকে মোদীর শুভেচ্ছা

প্রকাশ: ০৫:৪৯:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক লিও ভারাদকার। সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির এক চুক্তির আওতায় দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন মাইকেল মার্টিন।

তাঁর এ সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, “দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় ভারাদকারকে অভিনন্দন। অর্থনীতির উন্নয়নে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ হয়ে আছি।”

২০২০ সালের জুনের নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী মার্টিন ও লিও ভারাদকারের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে একটি চুক্তি হয়। চুক্তিতে বলা হয়, প্রথম দুই বছরের প্রধানমন্ত্রী হবেন মার্টিন। আর পরবর্তী দুই বছরের লিও ভারাদকার। চুক্তি মতে, শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) পার্লামেন্টের এক ভোটাভুটি হয়। সেখানে ৮৩ এমপি ভারাদকারের পক্ষে ভোট দেন। বিরুদ্ধে ভোট দেন ৬২ জন।

পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট মাইকেল ডি হিগিনসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ৪৩ বছর বয়সী ভারাদকার। সাক্ষাতের পর তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন করেন প্রেসিডেন্ট হিগিনস। আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্টকে ডেইল বলা হয়। এর সদস্যদের বলা হয় তাউঈ। আর প্রধানমন্ত্রীকে বলা হয় তাউঈসিচ।

ব্যক্তিগত জীবনে সমকামী ভারাদকার প্রথমবার আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হন ২০১৭ সালে, মাত্র ৩৮ বছর বয়সে। দায়িত্ব পালন করেন ২০২০ পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর পার্লামেন্টে এক ভাষণে ভারাদকার বলেন, গত ১০০ বছর ধরে আয়ারল্যান্ডের যে অর্জন তার উপর ভিত্তি করে নতুন নতুন অর্জনই তার লক্ষ্য। সেই সঙ্গে নতুন প্রজন্ম ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কী করা দরকার তা নিয়ে কাজ করা।

ইউরোপে একসময় সামাজিকভাবে অত্যন্ত রক্ষণশীল দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল আয়ারল্যান্ড। তবে সমকামী লিও ভারাদকার নিজের নতুন একটা ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হন। আয়াল্যান্ডে তার সমকামীদের ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর পরিচয় ও যৌন জীবনযাপন সেভাবে প্রাধান্য পায়নি।

তবে আইরিশ রাজনীতির শীর্ষে উত্থান নিয়ে বহুবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। এসব খবর প্রধানত তার সমকামিতার বিষয় নিয়ে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবেও রাজনীতিতে বেশ আলোচিত তিনি।

১৯৯০ সাল পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডে সমকামিতা ও বিবাহবিচ্ছেদ অবৈধ ছিল। ২০১৫ সালে মন্ত্রী হিসেবে আইরিশ গণমাধ্যম আরটিতে তিনি একজন সমকামী হিসেবে সাক্ষাৎকার দেন। তিনি বলেন, ‘এটা আমার জন্য মোটেও বড় কিছু নয়। আমি আশা করি, অন্য কারও জন্য এটা বড় কিছু হবে না, হওয়া উচিতও নয়।’ এর কয়েক মাস পর আয়ারল্যান্ডে এক গণভোটের মাধ্যমে সমলিঙ্গের বিয়েকে বৈধতা দেয়া হয়।

লিও ভারাদকার আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে ১৯৭৯ সালের ১৮ জানুয়ারি জন্ম নেন। তাঁর বাবা অশোক ছিলেন মুম্বাইয়ের একজন চিকিৎসক। যুক্তরাজ্যের বার্কশায়ারে কাজ করার সময় লিওর মা আইরিশ সেবিকা মিরিয়ামের সঙ্গে পরিচয় হয় অশোকের। ১৯৭০ সালে আয়ারল্যান্ডে তারা স্থায়ী হন। বাবার পথ ধরে লিও ভারদকারও চিকিৎসক হন।
২০০৭ সালে লিও ২৪ বছর বয়সে কাউন্সিলর হন ও আইরিশ পার্লামেন্টে নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর লিও ভারদকার প্রথমে পরিবহন, পর্যটন ও ক্রীড়ামন্ত্রী এবং পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক