০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

টেম্পেরা পেইন্টিং এর ইতিবৃত্ত

নওশীন নাওয়ার রাফা: চিত্রকলার দুনিয়ায় ‘টেম্পেরা’ শব্দটি খুব পরিচিত। এটি মূলত পেইন্টিং বা চিত্রাঙ্কনে রঙ ব্যবহারের এক কার্যকর কৌশল, যা বহুকাল যাবত বিশ্বজুড়ে প্রায় সব জাতি-সংস্কৃতি ও সমাজে বহুল ব্যবহৃত। প্রাগৈতিহাসিক যুগে রঙকে টেকসই করার জন্য অনেক রকম পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। টেম্পেরা সেই প্রাচীনতম পদ্ধতিরই পরিবর্তিত এক রূপ। তবে, ইউরোপে রেনেসাঁ যুগ শুরু হলে এবং তৈলচিত্রের উদ্ভাবনের দরূণ এর জনপ্রিয়তা কিছুটা হ্রাস পেতে আরম্ভ করে।

টেম্পেরা মানে আসলে নানা রকম জিনিস মিশিয়ে ছবি আঁকা। মূলত, রঙের গুঁড়োর সঙ্গে আঠা, গঁদ, ফলের বিচির কষ বা ডিম মিশিয়ে সেই রঙ দিয়ে দেওয়ালের শুকনো প্লাস্টারে, তামার পাতে কিংবা কাঠে ছবি আঁকাকেই বলা হয় টেম্পেরা। মোটা কাগজেও টেম্পেরা আঁকা যায়।

মিশর, ব্যাবিলনিয়া, মাইসেনিয়ান গ্রীস এবং চীনের প্রাচীন রাজবংশের ম্যুরাল তৈরীর মূল মাধ্যম ছিলো ‘টেম্পেরা পেইন্ট’ এবং প্রাথমিক খ্রিস্টান ক্যাটাকম্ব সাজাতেও এটি ব্যবহৃত হতো। টেম্পেরায় প্রস্তুতকৃত চিত্রসমূহ বহুদিন একইরকমভাবে থেকে যায়। যেমন, খ্রিস্টাব্দ প্রথম শতাব্দীর আঁকা টেম্পেরার অনেকগুলো এখনও অবিকৃতভাবে সমাজে বিদ্যমান। বস্তুত, গুহাচিত্রের মাধ্যমেই টেম্পেরা আঁকা শুরু হয়।

টেম্পেরা প্রস্তুতে প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহের তালিকা যথাক্রমে, একটি ডিম, সাদা ভিনেগার, রঙ্গক (জলরঙ), একটি পাত্র (একটি কাপ), পেইন্টব্রাশ, পেইন্ট মেশানোর জন্য কিছু (অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, মোমের কাগজ ইত্যাদি), আঁকার মতো কিছু কাঠ বা কাগজ বা কার্ডবোর্ড, একটি স্লটেড চামচ (ঐচ্ছিক), কাগজের তোয়ালে (ছিদ্র পরিষ্কার করার জন্য এবং ব্রাশ শুকানোর জন্য)।

টেম্পেরার রঙকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য সাধারণত এর সঙ্গে মেশানো হয় ডিম। এছাড়া আঠা, মধু, জল বা দুধও মেশানোর প্রথা চালু আছে। কিন্তু রঙের সঙ্গে ডিম মিশিয়ে যে টেম্পেরা আঁকা হয়, তাতে রঙের স্থায়ীত্ব অনেক বেশি হয়। রঙ ও ডিমকে নানা পদ্ধতিতে একীভূত হয়। কখনও ডিমের কুসুম ও ভিনিগার সমান অনুপাতে মিশিয়ে তাতে রঙের গুঁড়ো মেশানো হয়। আবার, কখনও এক অংশ ডিমের কুসুমের সঙ্গে দুই অংশ মদ মিশিয়ে তার সঙ্গে গুঁড়ো রঙ মেশানো হয়।

কিন্তু টেম্পেরার রঙের ক্ষেত্রে একটা অসুবিধা থেকেই যায়। ডিমের কুসুম বাতাসের সংস্পর্শে খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। তখন এর সঙ্গে জল মিশিয়ে আবার তরল করতে হয়। আবার খুব বেশি তরল হয়ে গেলে তাতে ডিমের কুসুম মিশিয়ে আবার সেই রঙের আঠালো ভাব ঠিকঠাক অনুপাতে আনতে হয়।

যেসব রঙের গুঁড়ো মেশানো হয় এই টেম্পেরার জন্য, তার মধ্যে কিছু বিষাক্ত রঙও রয়েছে। যেমন সিনাবারের মধ্যে থাকে পারদ, অরপিমেন্ট এর মধ্যে থাকে আর্সেনিক, আবার লেড হোয়াইটের মধ্যে থাকে সীসা। তাই এই রঙগুলো ব্যবহারের সময় যথেষ্ট সাবধানতা ব্যবহার করা হয়।

টেম্পেরা শব্দটি ল্যাটিন শব্দ temperare থেকে এসেছে। একে এগ টেম্পেরাও বলা হয়। এর অর্থ ‘আনুপাতিকভাবে মিশ্রিত করা’। এটি পোস্টার পেইন্ট নামেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলো। টেম্পেরা পেইন্টিং কৌশল প্রাচীনকালে উদ্ভূত বলে মনে হয়। তবে, অধিকাংশ প্রাচীন টেম্পেরা তৎকালীন রাজরাজরাদের বিবাদ, যুদ্ধ, লুটপাট ইত্যাদি নানা কারণে ধ্বংস হয়। কিন্তু, এখনও কালের স্বাক্ষী হয়ে টিকে আছে কিছু প্রাচীন টেম্পেরা।

মিশরীয় শিল্পে টেম্পেরার অসংখ্য কাজ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে – বিশেষ করে ফায়ুম মমির প্রতিকৃতি। রোমান সাম্রাজ্যেও টেম্পেরা জনপ্রিয় ছিলো, যেমন, বার্লিনের সেভেরান টোন্ডো।

প্রাচীন রোমের পতনের পরপরই চিত্রকলায় এক অন্ধকার যুগের (খ্রিস্টাব্দ ৪০০-৮০০ সাল) সূচনা হয়। এসময়, বিশ্ব ঐতিহ্যের মূল কেন্দ্র পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের কনস্টান্টিনোপলে চলে যায়। এসময়ই টেম্পেরা পদ্ধতিটি ধীরে ধীরে আইকন পেইন্টিংয়ের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে এবং ধর্মীয় বই এর মোলাট অঙ্কনের জন্য জনপ্রিয় হতে থাকে! ইতোপূর্বে এসব কাজে এনকাস্টিক পেইন্টিং বহুল ব্যবহৃত ছিলো। কিন্তু, টেম্পেরার ব্যবহার এনকাস্টিক পেইন্টিংকে ছাড়িয়ে যায় অতি দ্রুতই!

এদিকে, যেহেতু রাশিয়া পূর্ব অর্থোডক্স অঞ্চলের অংশ ছিলো এবং কনস্টান্টিনোপলের প্রভাবে গোটা রুশ অঞ্চল, যথা: কিয়েভ, নোভগোরড এবং মস্কোতে আইকন পেইন্টিং এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ছিলো, তাই টেম্পেরার ব্যবহার সেখানেও অতি অল্প সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। রুশ মধ্যযুগীয় চিত্রকলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই টেম্পেরা। এই যুগের কিছু বিখ্যাত রুশ টেম্পেরা চিত্রশিল্পীগণ হলেন: কনস্টান্টিনোপল নোভগোরড স্কুল অব আইকন পেইন্টিং এর প্রতিষ্ঠাতা গ্রীক থিওফেনেস (খ্রিস্টাব্দ ১৩৪০-১৪১০), তাঁর ছাত্র ও তর্কাতীতভাবে সমস্ত রাশিয়ান মূর্তিকারদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত আন্দ্রেই রুবলেভ (খ্রিস্টাব্দ ১৩৬০-১৪৩০) এবং ভোলোকোলামস্কি মঠে প্যানেলের জন্য সুপরিচিত ডায়োনিসিয়াস (খ্রিস্টাব্দ ১৪৪০-১৫০২)।

ইতোমধ্যে টেম্পেরার জনপ্রিয়তা আয়ারল্যান্ডে (আনুমানিক ৬০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে), পশ্চিম ইউরোপে (আনুমানিক ৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে) বিকাশ লাভ করে।

তবে, মিশ্রণ এবং ব্যবহারে জটিলতার দরুণ ডিমের কুসুমে রঙ মিশিয়ে এই টেম্পেরা আঁকার পদ্ধতি একটু একটু করে হারাতে থাকে তার গতিস্রোত। রেনেসাঁ যুগে তেলচিত্র জনপ্রিয় হওয়ার সাথে সাথে স্তিমিত হয়ে পড়ে টেম্পেরার ব্যবহার।

ইতালির শিল্পীরা রেনেসাঁ যুগে ব্যপকভাবে তেলচিত্রের ব্যবহার শুরু করলেও অনেকেই প্রথাগত টেম্পেরার উপর বিশ্বাস হারাননি। তারা বিভিন্ন উপায়ে টেম্পেরা অঙ্কন করতেন। তারই কিছু উদাহরণ নিচে দেয়া হলো:

১. কিছু শিল্পী ডিমের ঘনত্বে তৈরী খাঁটি টেম্পেরার কাজ চালিয়ে যান। তিনি ডিম টেম্পেরার পাশাপাশি ফ্রেস্কো পদ্ধতিতেও চিত্রাঙ্কন করতেন। গুঁড়ো রঙকে ব্যবহার করার সময় জলে গুলে নেওয়া হয়। সেই জল-রঙে ছবি আঁকা হতো দেয়ালে। কিন্তু দেয়াল শুকনো থাকলে রঙ তাতে রঙ ধরানো মুশকিল হয়ে থাকে। তাই ছবি আঁকার ঠিক আগে দেয়ালে প্লাস্টার করে নেওয়া হতো। তারপর সেই ভেজা প্লাস্টারে আঁকা হতো ছবি। এই ছবিকেই বলা হয় ফ্রেসকো। ফ্রেস্ মানে সদ্য বা নতুন। ফ্রেসকো মানে সদ্য প্লাস্টার করা ভেজা দেওয়ালে জল-রঙ দিয়ে আঁকা ছবি। এই ফ্রেসকো আঁকতে গেলে সময়সীমা মেনে ছবি আঁকতে হয়। কারণ, প্লাস্টার ভেজা থাকতে থাকতেই তাতে রঙ দিয়ে ছবি আঁকা যাবে। কিন্তু যদি প্লাস্টার শুকিয়ে যায় তবে সেখানে আর রঙ ধরানো যাবেনা।

২. কয়েকজন শিল্পী এগ টেম্পার আন্ডারপেইন্টিংকে তেল ওভারপেইন্টিংয়ের সাথে একত্রিত করেছিলেন। এদের মধ্যে অন্যতম মাইকেলেঞ্জেলোর অসমাপ্ত কাজ, দ্য ম্যানচেস্টার ম্যাডোনা। ১৪৯৭ সালে ডিমের টেম্পেরায় করা একটি সবুজ মাটির আন্ডারপেইন্টিং এটি। সম্ভবত মাইকেলেঞ্জেলো তেলচিত্রে কাজটি শেষ করতে চেয়েছিলেন।

৩. কিছু রেনেসাঁ পেইন্টিং টেম্পেরা এবং তেলচিত্র উভয় মাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থাৎ, চিত্রের বিশেষ কোন অংশে টেম্পেরা বা তেলচিত্র ব্যবহার করা। একজন চিত্রশিল্পী হালকা মান এবং/অথবা শীতল রঙের তাপমাত্রা, যেমন সাদা বা নীল (যেহেতু বয়সের সাথে টেম্পেরা গাঢ় বা হলুদ হয় না) সহ একটি চিত্রের কোন বিশেষ অংশের জন্য ডিমের টেম্পেরা ব্যবহার করতে পারে।

৪. কিছু চিত্রশিল্পী ডিমের কুসুম এবং তেল একসাথে মিশিয়ে একটি ডিম এবং তেল ইমালসন পেইন্ট তৈরি করেন, যা টেম্পেরা গ্রাস নামে পরিচিত। ২০১১ সালে বিশ্লেষণ করা ১৫০০-এর দশকের গোড়ার দিকের বেশ কয়েকটি লরেঞ্জো লোটো পেইন্টিংকে স্পষ্টভাবে বলা হয় যে টেম্পেরা গ্রাসে আঁকা। যেমন: Botticelli’s Primavera, ১৪৮২, আংশিকভাবে টেম্পেরা গ্রাস -এ আঁকা হয়েছে বলে মনে করা হয়।

৫. অনেক চিত্রশিল্পী টেম্পেরা পেইন্টিং এর মাধ্যমে নিজেদের ক্যারিয়ার শুরু করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সম্পূর্ণ তৈলচিত্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। পিয়েরো ডেলা ফ্রান্সেসকা ছিলেন এমন প্রথম ব্যক্তিদের মধ্যে একজন, যিনি ডিম টেম্পার মাস্টার হিসাবে শুরু করেছিলেন, তারপরে তেলের সাথে পরিচিত হন এবং শীঘ্রই এটিকে তার প্রাথমিক মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করেন।

এভাবে অনেকাংশেই ডিম টেম্পেরার ব্যবহার দিনকে দিন কমতে থাকে। প্রায় চারশ বছর পৃথিবীবুকে টেম্পেরা এক আনুষ্ঠানিক নামমাত্র পদ্ধতি হিসেবে জীবিত ছিলো! কিন্তু এতো বছরের নির্লিপ্তি কাটিয়ে বিংশ শতাব্দীতে আবারও কিছু ইউরোপিয়ান শিল্পীর হাত ধরে জনপ্রিয়তা ফিরে পেতে থাকে টেম্পেরা।

উপমহাদেশে ইউরোপীয় আধিপত্যের সূত্র ধরে ভারতবর্ষে, বিশেষ করে বাঙালীদের মাঝেও টেম্পেরা জনপ্রিয় হয়। আমাদের বাঙালি শিল্পী যামিনী রায় এবং গণেশ পাইন তাঁদের অনেক বিখ্যাত ছবি টেম্পেরায় এঁকেছেন। এছাড়া, বেঙ্গল স্কুল অফ আর্টিস্ট-এর শিল্পীরা তাদের চিত্রাঙ্কনের প্রাথমিক মাধ্যম হিসাবে টেম্পেরাকেই বেছে নিয়েছিলেন। গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অসিত কুমার হালদার, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, কালিপদ ঘোষাল এই টেম্পেরাকে নিয়ে এসেছেন অনন্য এক উচ্চতায়!

উপরোক্ত আলোচনাসমূহ থেকে ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই টেম্পেরার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা তৈরী হয়েছে। আমরা জেনেছি, টেম্পেরা সাধারণত একটি প্রস্তুত পৃষ্ঠের উপর প্রয়োগ করা হয়। এর অন্যতম সুবিধা হলো, টেম্পেরা শুকনো প্লাস্টারে, কাঠের প্যানেলে, তামার পাতে, এমনকি মোটা কাগজেও আঁকা যেতে পারে। টেম্পেরা দেয়ালেও হতে পারে। তবে তা অবশ্যই শুকনো প্লাস্টারে হবে। টেম্পেরার পেইন্টিং খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়। আর তেলচিত্রের মতো এটি শুকিয়ে যায়না বা রঙ হারায় না।

আর টেম্পেরার অসুবিধা হচ্ছে মূলত, তেল রঙের বিপরীতে টেম্পেরা খুব ঘনভাবে প্রয়োগ করা যায়না এবং এইভাবে তেলের গভীরে রঙের অভাব থাকে। এছাড়া, এটিকে পাতলা স্তরে প্রয়োগ করা সময়সাপেক্ষ।

এখানে বিখ্যাত টেম্পেরার পেইন্টারদের তৈরী চিত্রকর্মের এর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা উল্লেখ করা হলো, যা বিশ্বের সেরা শিল্প জাদুঘরে দেখা যেতে পারে: Duccio Di Buoninsegna (১২৫৫-১৩১৯), ইতালি -এর আঁকা Maesta (1308-11) Siena Museo dell’Opera del Duomo, স্ট্রোগানফ ম্যাডোনা এবং শিশু (১৩০০ খ্রিস্টাব্দ), মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট। সিমোন মার্টিনি (১২৮৪-১৩৪৪) এর আঁকা অ্যানানসিয়েশন ট্রিপটাইচ (১৩৩৩) উফিজি, ফ্লোরেন্স, ক্রাইস্ট অন দ্য ক্রস (১৩৪০), ফগ আর্ট মিউজিয়াম, কেমব্রিজ, ম্যাস।

থিওফেনেস দ্য গ্রীক (১৩৪০-১৪১০ খ্রিস্টাব্দ) এর আঁকা ডর্মেশন অফ দ্য ভার্জিন (১৩৯২), ট্রেটিয়াকভ গ্যালারি, মস্কো। মেলচিওর ব্রোডারলাম (১৩৫০-১৪১১ খ্রিস্টাব্দ) এর আঁকা দ্য ডিজন আলটারপিস (১৩৯৪-৯৯), মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস, ডিজন। পাওলো উচেলো (১৩৯৭-১৪৭৫ খ্রিস্টাব্দ) এর আঁকা সান রোমানোর যুদ্ধ (১৪৪০), উফিজি; ল্যুভর; ন্যাশনাল গ্যালারি, লন্ডন; হান্ট ইন দ্য ফরেস্ট (১৪৭০) অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়াম, অক্সফোর্ড।

লিখাটিতে তথ্যসূত্র হিসেবে মৃণাল নন্দীর লিখা রঙের ইতিকথার এটি অষ্টম কাহিনীতে ‘টেম্পেরা ও ফ্রেসকো’ এবং ইন্টারনেটে প্রাপ্ত অন্যান্য লেখনী ব্যবহৃত হয়েছে। পরিশেষে, যুগে যুগে চিত্রকলা সমৃদ্ধ হয়েছে নানা রকম পদ্ধতিগত উৎকর্ষের মেলবন্ধনে। কিন্তু, প্রাচীন পদ্ধতিসমূহ আমাদেরকে পথ দেখায় নতুন সমৃদ্ধি ও সভ্যতার। বস্তুত সেজন্যেই চিত্রকলার ঐতিহ্যগত সমৃদ্ধ ভান্ডার ধরে রাখতে টেম্পেরা পদ্ধতি সংরক্ষণের বিকল্প নেই।

লেখক: শিক্ষার্থী, শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ট্যাগ:

টেম্পেরা পেইন্টিং এর ইতিবৃত্ত

প্রকাশ: ১২:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৩

নওশীন নাওয়ার রাফা: চিত্রকলার দুনিয়ায় ‘টেম্পেরা’ শব্দটি খুব পরিচিত। এটি মূলত পেইন্টিং বা চিত্রাঙ্কনে রঙ ব্যবহারের এক কার্যকর কৌশল, যা বহুকাল যাবত বিশ্বজুড়ে প্রায় সব জাতি-সংস্কৃতি ও সমাজে বহুল ব্যবহৃত। প্রাগৈতিহাসিক যুগে রঙকে টেকসই করার জন্য অনেক রকম পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। টেম্পেরা সেই প্রাচীনতম পদ্ধতিরই পরিবর্তিত এক রূপ। তবে, ইউরোপে রেনেসাঁ যুগ শুরু হলে এবং তৈলচিত্রের উদ্ভাবনের দরূণ এর জনপ্রিয়তা কিছুটা হ্রাস পেতে আরম্ভ করে।

টেম্পেরা মানে আসলে নানা রকম জিনিস মিশিয়ে ছবি আঁকা। মূলত, রঙের গুঁড়োর সঙ্গে আঠা, গঁদ, ফলের বিচির কষ বা ডিম মিশিয়ে সেই রঙ দিয়ে দেওয়ালের শুকনো প্লাস্টারে, তামার পাতে কিংবা কাঠে ছবি আঁকাকেই বলা হয় টেম্পেরা। মোটা কাগজেও টেম্পেরা আঁকা যায়।

মিশর, ব্যাবিলনিয়া, মাইসেনিয়ান গ্রীস এবং চীনের প্রাচীন রাজবংশের ম্যুরাল তৈরীর মূল মাধ্যম ছিলো ‘টেম্পেরা পেইন্ট’ এবং প্রাথমিক খ্রিস্টান ক্যাটাকম্ব সাজাতেও এটি ব্যবহৃত হতো। টেম্পেরায় প্রস্তুতকৃত চিত্রসমূহ বহুদিন একইরকমভাবে থেকে যায়। যেমন, খ্রিস্টাব্দ প্রথম শতাব্দীর আঁকা টেম্পেরার অনেকগুলো এখনও অবিকৃতভাবে সমাজে বিদ্যমান। বস্তুত, গুহাচিত্রের মাধ্যমেই টেম্পেরা আঁকা শুরু হয়।

টেম্পেরা প্রস্তুতে প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহের তালিকা যথাক্রমে, একটি ডিম, সাদা ভিনেগার, রঙ্গক (জলরঙ), একটি পাত্র (একটি কাপ), পেইন্টব্রাশ, পেইন্ট মেশানোর জন্য কিছু (অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, মোমের কাগজ ইত্যাদি), আঁকার মতো কিছু কাঠ বা কাগজ বা কার্ডবোর্ড, একটি স্লটেড চামচ (ঐচ্ছিক), কাগজের তোয়ালে (ছিদ্র পরিষ্কার করার জন্য এবং ব্রাশ শুকানোর জন্য)।

টেম্পেরার রঙকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য সাধারণত এর সঙ্গে মেশানো হয় ডিম। এছাড়া আঠা, মধু, জল বা দুধও মেশানোর প্রথা চালু আছে। কিন্তু রঙের সঙ্গে ডিম মিশিয়ে যে টেম্পেরা আঁকা হয়, তাতে রঙের স্থায়ীত্ব অনেক বেশি হয়। রঙ ও ডিমকে নানা পদ্ধতিতে একীভূত হয়। কখনও ডিমের কুসুম ও ভিনিগার সমান অনুপাতে মিশিয়ে তাতে রঙের গুঁড়ো মেশানো হয়। আবার, কখনও এক অংশ ডিমের কুসুমের সঙ্গে দুই অংশ মদ মিশিয়ে তার সঙ্গে গুঁড়ো রঙ মেশানো হয়।

কিন্তু টেম্পেরার রঙের ক্ষেত্রে একটা অসুবিধা থেকেই যায়। ডিমের কুসুম বাতাসের সংস্পর্শে খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। তখন এর সঙ্গে জল মিশিয়ে আবার তরল করতে হয়। আবার খুব বেশি তরল হয়ে গেলে তাতে ডিমের কুসুম মিশিয়ে আবার সেই রঙের আঠালো ভাব ঠিকঠাক অনুপাতে আনতে হয়।

যেসব রঙের গুঁড়ো মেশানো হয় এই টেম্পেরার জন্য, তার মধ্যে কিছু বিষাক্ত রঙও রয়েছে। যেমন সিনাবারের মধ্যে থাকে পারদ, অরপিমেন্ট এর মধ্যে থাকে আর্সেনিক, আবার লেড হোয়াইটের মধ্যে থাকে সীসা। তাই এই রঙগুলো ব্যবহারের সময় যথেষ্ট সাবধানতা ব্যবহার করা হয়।

টেম্পেরা শব্দটি ল্যাটিন শব্দ temperare থেকে এসেছে। একে এগ টেম্পেরাও বলা হয়। এর অর্থ ‘আনুপাতিকভাবে মিশ্রিত করা’। এটি পোস্টার পেইন্ট নামেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলো। টেম্পেরা পেইন্টিং কৌশল প্রাচীনকালে উদ্ভূত বলে মনে হয়। তবে, অধিকাংশ প্রাচীন টেম্পেরা তৎকালীন রাজরাজরাদের বিবাদ, যুদ্ধ, লুটপাট ইত্যাদি নানা কারণে ধ্বংস হয়। কিন্তু, এখনও কালের স্বাক্ষী হয়ে টিকে আছে কিছু প্রাচীন টেম্পেরা।

মিশরীয় শিল্পে টেম্পেরার অসংখ্য কাজ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে – বিশেষ করে ফায়ুম মমির প্রতিকৃতি। রোমান সাম্রাজ্যেও টেম্পেরা জনপ্রিয় ছিলো, যেমন, বার্লিনের সেভেরান টোন্ডো।

প্রাচীন রোমের পতনের পরপরই চিত্রকলায় এক অন্ধকার যুগের (খ্রিস্টাব্দ ৪০০-৮০০ সাল) সূচনা হয়। এসময়, বিশ্ব ঐতিহ্যের মূল কেন্দ্র পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের কনস্টান্টিনোপলে চলে যায়। এসময়ই টেম্পেরা পদ্ধতিটি ধীরে ধীরে আইকন পেইন্টিংয়ের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে এবং ধর্মীয় বই এর মোলাট অঙ্কনের জন্য জনপ্রিয় হতে থাকে! ইতোপূর্বে এসব কাজে এনকাস্টিক পেইন্টিং বহুল ব্যবহৃত ছিলো। কিন্তু, টেম্পেরার ব্যবহার এনকাস্টিক পেইন্টিংকে ছাড়িয়ে যায় অতি দ্রুতই!

এদিকে, যেহেতু রাশিয়া পূর্ব অর্থোডক্স অঞ্চলের অংশ ছিলো এবং কনস্টান্টিনোপলের প্রভাবে গোটা রুশ অঞ্চল, যথা: কিয়েভ, নোভগোরড এবং মস্কোতে আইকন পেইন্টিং এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ছিলো, তাই টেম্পেরার ব্যবহার সেখানেও অতি অল্প সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। রুশ মধ্যযুগীয় চিত্রকলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই টেম্পেরা। এই যুগের কিছু বিখ্যাত রুশ টেম্পেরা চিত্রশিল্পীগণ হলেন: কনস্টান্টিনোপল নোভগোরড স্কুল অব আইকন পেইন্টিং এর প্রতিষ্ঠাতা গ্রীক থিওফেনেস (খ্রিস্টাব্দ ১৩৪০-১৪১০), তাঁর ছাত্র ও তর্কাতীতভাবে সমস্ত রাশিয়ান মূর্তিকারদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত আন্দ্রেই রুবলেভ (খ্রিস্টাব্দ ১৩৬০-১৪৩০) এবং ভোলোকোলামস্কি মঠে প্যানেলের জন্য সুপরিচিত ডায়োনিসিয়াস (খ্রিস্টাব্দ ১৪৪০-১৫০২)।

ইতোমধ্যে টেম্পেরার জনপ্রিয়তা আয়ারল্যান্ডে (আনুমানিক ৬০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে), পশ্চিম ইউরোপে (আনুমানিক ৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে) বিকাশ লাভ করে।

তবে, মিশ্রণ এবং ব্যবহারে জটিলতার দরুণ ডিমের কুসুমে রঙ মিশিয়ে এই টেম্পেরা আঁকার পদ্ধতি একটু একটু করে হারাতে থাকে তার গতিস্রোত। রেনেসাঁ যুগে তেলচিত্র জনপ্রিয় হওয়ার সাথে সাথে স্তিমিত হয়ে পড়ে টেম্পেরার ব্যবহার।

ইতালির শিল্পীরা রেনেসাঁ যুগে ব্যপকভাবে তেলচিত্রের ব্যবহার শুরু করলেও অনেকেই প্রথাগত টেম্পেরার উপর বিশ্বাস হারাননি। তারা বিভিন্ন উপায়ে টেম্পেরা অঙ্কন করতেন। তারই কিছু উদাহরণ নিচে দেয়া হলো:

১. কিছু শিল্পী ডিমের ঘনত্বে তৈরী খাঁটি টেম্পেরার কাজ চালিয়ে যান। তিনি ডিম টেম্পেরার পাশাপাশি ফ্রেস্কো পদ্ধতিতেও চিত্রাঙ্কন করতেন। গুঁড়ো রঙকে ব্যবহার করার সময় জলে গুলে নেওয়া হয়। সেই জল-রঙে ছবি আঁকা হতো দেয়ালে। কিন্তু দেয়াল শুকনো থাকলে রঙ তাতে রঙ ধরানো মুশকিল হয়ে থাকে। তাই ছবি আঁকার ঠিক আগে দেয়ালে প্লাস্টার করে নেওয়া হতো। তারপর সেই ভেজা প্লাস্টারে আঁকা হতো ছবি। এই ছবিকেই বলা হয় ফ্রেসকো। ফ্রেস্ মানে সদ্য বা নতুন। ফ্রেসকো মানে সদ্য প্লাস্টার করা ভেজা দেওয়ালে জল-রঙ দিয়ে আঁকা ছবি। এই ফ্রেসকো আঁকতে গেলে সময়সীমা মেনে ছবি আঁকতে হয়। কারণ, প্লাস্টার ভেজা থাকতে থাকতেই তাতে রঙ দিয়ে ছবি আঁকা যাবে। কিন্তু যদি প্লাস্টার শুকিয়ে যায় তবে সেখানে আর রঙ ধরানো যাবেনা।

২. কয়েকজন শিল্পী এগ টেম্পার আন্ডারপেইন্টিংকে তেল ওভারপেইন্টিংয়ের সাথে একত্রিত করেছিলেন। এদের মধ্যে অন্যতম মাইকেলেঞ্জেলোর অসমাপ্ত কাজ, দ্য ম্যানচেস্টার ম্যাডোনা। ১৪৯৭ সালে ডিমের টেম্পেরায় করা একটি সবুজ মাটির আন্ডারপেইন্টিং এটি। সম্ভবত মাইকেলেঞ্জেলো তেলচিত্রে কাজটি শেষ করতে চেয়েছিলেন।

৩. কিছু রেনেসাঁ পেইন্টিং টেম্পেরা এবং তেলচিত্র উভয় মাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থাৎ, চিত্রের বিশেষ কোন অংশে টেম্পেরা বা তেলচিত্র ব্যবহার করা। একজন চিত্রশিল্পী হালকা মান এবং/অথবা শীতল রঙের তাপমাত্রা, যেমন সাদা বা নীল (যেহেতু বয়সের সাথে টেম্পেরা গাঢ় বা হলুদ হয় না) সহ একটি চিত্রের কোন বিশেষ অংশের জন্য ডিমের টেম্পেরা ব্যবহার করতে পারে।

৪. কিছু চিত্রশিল্পী ডিমের কুসুম এবং তেল একসাথে মিশিয়ে একটি ডিম এবং তেল ইমালসন পেইন্ট তৈরি করেন, যা টেম্পেরা গ্রাস নামে পরিচিত। ২০১১ সালে বিশ্লেষণ করা ১৫০০-এর দশকের গোড়ার দিকের বেশ কয়েকটি লরেঞ্জো লোটো পেইন্টিংকে স্পষ্টভাবে বলা হয় যে টেম্পেরা গ্রাসে আঁকা। যেমন: Botticelli’s Primavera, ১৪৮২, আংশিকভাবে টেম্পেরা গ্রাস -এ আঁকা হয়েছে বলে মনে করা হয়।

৫. অনেক চিত্রশিল্পী টেম্পেরা পেইন্টিং এর মাধ্যমে নিজেদের ক্যারিয়ার শুরু করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সম্পূর্ণ তৈলচিত্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। পিয়েরো ডেলা ফ্রান্সেসকা ছিলেন এমন প্রথম ব্যক্তিদের মধ্যে একজন, যিনি ডিম টেম্পার মাস্টার হিসাবে শুরু করেছিলেন, তারপরে তেলের সাথে পরিচিত হন এবং শীঘ্রই এটিকে তার প্রাথমিক মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করেন।

এভাবে অনেকাংশেই ডিম টেম্পেরার ব্যবহার দিনকে দিন কমতে থাকে। প্রায় চারশ বছর পৃথিবীবুকে টেম্পেরা এক আনুষ্ঠানিক নামমাত্র পদ্ধতি হিসেবে জীবিত ছিলো! কিন্তু এতো বছরের নির্লিপ্তি কাটিয়ে বিংশ শতাব্দীতে আবারও কিছু ইউরোপিয়ান শিল্পীর হাত ধরে জনপ্রিয়তা ফিরে পেতে থাকে টেম্পেরা।

উপমহাদেশে ইউরোপীয় আধিপত্যের সূত্র ধরে ভারতবর্ষে, বিশেষ করে বাঙালীদের মাঝেও টেম্পেরা জনপ্রিয় হয়। আমাদের বাঙালি শিল্পী যামিনী রায় এবং গণেশ পাইন তাঁদের অনেক বিখ্যাত ছবি টেম্পেরায় এঁকেছেন। এছাড়া, বেঙ্গল স্কুল অফ আর্টিস্ট-এর শিল্পীরা তাদের চিত্রাঙ্কনের প্রাথমিক মাধ্যম হিসাবে টেম্পেরাকেই বেছে নিয়েছিলেন। গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অসিত কুমার হালদার, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, কালিপদ ঘোষাল এই টেম্পেরাকে নিয়ে এসেছেন অনন্য এক উচ্চতায়!

উপরোক্ত আলোচনাসমূহ থেকে ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই টেম্পেরার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা তৈরী হয়েছে। আমরা জেনেছি, টেম্পেরা সাধারণত একটি প্রস্তুত পৃষ্ঠের উপর প্রয়োগ করা হয়। এর অন্যতম সুবিধা হলো, টেম্পেরা শুকনো প্লাস্টারে, কাঠের প্যানেলে, তামার পাতে, এমনকি মোটা কাগজেও আঁকা যেতে পারে। টেম্পেরা দেয়ালেও হতে পারে। তবে তা অবশ্যই শুকনো প্লাস্টারে হবে। টেম্পেরার পেইন্টিং খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়। আর তেলচিত্রের মতো এটি শুকিয়ে যায়না বা রঙ হারায় না।

আর টেম্পেরার অসুবিধা হচ্ছে মূলত, তেল রঙের বিপরীতে টেম্পেরা খুব ঘনভাবে প্রয়োগ করা যায়না এবং এইভাবে তেলের গভীরে রঙের অভাব থাকে। এছাড়া, এটিকে পাতলা স্তরে প্রয়োগ করা সময়সাপেক্ষ।

এখানে বিখ্যাত টেম্পেরার পেইন্টারদের তৈরী চিত্রকর্মের এর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা উল্লেখ করা হলো, যা বিশ্বের সেরা শিল্প জাদুঘরে দেখা যেতে পারে: Duccio Di Buoninsegna (১২৫৫-১৩১৯), ইতালি -এর আঁকা Maesta (1308-11) Siena Museo dell’Opera del Duomo, স্ট্রোগানফ ম্যাডোনা এবং শিশু (১৩০০ খ্রিস্টাব্দ), মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট। সিমোন মার্টিনি (১২৮৪-১৩৪৪) এর আঁকা অ্যানানসিয়েশন ট্রিপটাইচ (১৩৩৩) উফিজি, ফ্লোরেন্স, ক্রাইস্ট অন দ্য ক্রস (১৩৪০), ফগ আর্ট মিউজিয়াম, কেমব্রিজ, ম্যাস।

থিওফেনেস দ্য গ্রীক (১৩৪০-১৪১০ খ্রিস্টাব্দ) এর আঁকা ডর্মেশন অফ দ্য ভার্জিন (১৩৯২), ট্রেটিয়াকভ গ্যালারি, মস্কো। মেলচিওর ব্রোডারলাম (১৩৫০-১৪১১ খ্রিস্টাব্দ) এর আঁকা দ্য ডিজন আলটারপিস (১৩৯৪-৯৯), মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস, ডিজন। পাওলো উচেলো (১৩৯৭-১৪৭৫ খ্রিস্টাব্দ) এর আঁকা সান রোমানোর যুদ্ধ (১৪৪০), উফিজি; ল্যুভর; ন্যাশনাল গ্যালারি, লন্ডন; হান্ট ইন দ্য ফরেস্ট (১৪৭০) অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়াম, অক্সফোর্ড।

লিখাটিতে তথ্যসূত্র হিসেবে মৃণাল নন্দীর লিখা রঙের ইতিকথার এটি অষ্টম কাহিনীতে ‘টেম্পেরা ও ফ্রেসকো’ এবং ইন্টারনেটে প্রাপ্ত অন্যান্য লেখনী ব্যবহৃত হয়েছে। পরিশেষে, যুগে যুগে চিত্রকলা সমৃদ্ধ হয়েছে নানা রকম পদ্ধতিগত উৎকর্ষের মেলবন্ধনে। কিন্তু, প্রাচীন পদ্ধতিসমূহ আমাদেরকে পথ দেখায় নতুন সমৃদ্ধি ও সভ্যতার। বস্তুত সেজন্যেই চিত্রকলার ঐতিহ্যগত সমৃদ্ধ ভান্ডার ধরে রাখতে টেম্পেরা পদ্ধতি সংরক্ষণের বিকল্প নেই।

লেখক: শিক্ষার্থী, শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়