০৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বেঙ্গালুরুতে বসছে জি২০ অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধানদের বৈঠক

ভারতের সভাপতিত্বে প্রথমবারের মতো বেঙ্গালুরুর নন্দী হিলসে গ্রীষ্মকালীন রিট্রিটে আগামী ২২-২৫ ফেব্রুয়ারি জি-২০ গ্রুপের দেশগুলো বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। একদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান ঋণ সমস্যা, ক্রিপ্টোকারেন্সির নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক মন্দা নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের প্রথম বছরের বার্ষিকীতে এ সম্মেলনে ফিনান্স এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধানরা আগামী সপ্তাহে ভারতে মিলিত হচ্ছেন, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক রাজনীতি নিয়ে কূটনৈতিক লড়াই চলছে মার্কিন শীর্ষ ধনী জর্জ সোরোসের সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের।

মহামারী এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক পতনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ ঋণগ্রস্ত দেশগুলোকে সাহায্য করার লক্ষ্যে জি২০ দেশগুলোর জন্য একটি প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছে ভারত। এ লক্ষ্যে, জি ২০ গ্রুপের অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধানরা আগামী সপ্তাহে বেঙ্গালুরুতে বৈঠকের জন্য প্রস্তুত। এই সমাবেশটি বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির একটি ব্লক ভারতের জি-২০ এক বছরের সভাপতিত্বের প্রথম বড় ইভেন্ট হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মঙ্গলবার বলেছে যে, তারা বিশ্বব্যাংক, ভারত, চীন, সৌদি আরব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য ধনী গ্রুপ অফ সেভেন (জি৭) গণতন্ত্রের সাথে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করবে। সেখানে তারা দুর্দশাগ্রস্ত দেশের ঋণ পুনর্গঠন কিভাবে করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করবে।

চীন এবং অন্যান্য জি-২০ দেশগুলো ভারতের এ কাজ করা নিয়ে আগে থেকেই অবগত ছিল। এ বিষয়ে চীন জানায়, তারা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণের সমস্যাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রাসঙ্গিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমর্থন করছে।

নয়াদিল্লি আশা করে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান সমর্থক হবে। তবে মার্কিন ট্রেজারির একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ভারতের দুই প্রতিবেশী পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ফুরিয়ে যাওয়ার আগে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সাহায্য চেয়েছে।

ভারত এবং প্যারিস ক্লাব অফ ক্রেডিটার্স সম্প্রতি আইএমএফ কে বলেছে যে তারা শ্রীলঙ্কার ঋণ পুনর্গঠন পরিকল্পনাকে সমর্থন করছে কারণ দেউলিয়া দেশটি তাদের কাছে ২৯ কোটির ঋণ আবেদন করে।

চীনের রপ্তানি-আমদানি ব্যাংক শ্রীলঙ্কাকে তার ঋণের জন্য দুই বছরের স্থগিতাদেশ দিয়েছে এবং বলেছে যে এটি একটি আইএমএফ প্রোগ্রাম সুরক্ষিত করার জন্য দেশটির প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে। শ্রীলঙ্কার সরকারের একটি সূত্র বলছে যে এটি যথেষ্ট নয়।

আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথাকথিত কমন ফ্রেমওয়ার্কের জন্য চাপ দিচ্ছে। এটি একটি জি-২০ উদ্যোগ যা ২০২০ সালে চালু করা হয়েছিল দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণ পরিশোধে সাহায্য করার জন্য।

ডিসেম্বরে, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেন যে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতাদের কাছে বার্ষিক ঋণ পরিষেবার জন্য ৬২০ কোটি পাওনা রয়েছে, যা বছরে ৩৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

বেঙ্গালুরুতে বসছে জি২০ অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধানদের বৈঠক

প্রকাশ: ১১:২১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

ভারতের সভাপতিত্বে প্রথমবারের মতো বেঙ্গালুরুর নন্দী হিলসে গ্রীষ্মকালীন রিট্রিটে আগামী ২২-২৫ ফেব্রুয়ারি জি-২০ গ্রুপের দেশগুলো বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। একদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান ঋণ সমস্যা, ক্রিপ্টোকারেন্সির নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক মন্দা নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের প্রথম বছরের বার্ষিকীতে এ সম্মেলনে ফিনান্স এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধানরা আগামী সপ্তাহে ভারতে মিলিত হচ্ছেন, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক রাজনীতি নিয়ে কূটনৈতিক লড়াই চলছে মার্কিন শীর্ষ ধনী জর্জ সোরোসের সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের।

মহামারী এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক পতনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ ঋণগ্রস্ত দেশগুলোকে সাহায্য করার লক্ষ্যে জি২০ দেশগুলোর জন্য একটি প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছে ভারত। এ লক্ষ্যে, জি ২০ গ্রুপের অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধানরা আগামী সপ্তাহে বেঙ্গালুরুতে বৈঠকের জন্য প্রস্তুত। এই সমাবেশটি বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির একটি ব্লক ভারতের জি-২০ এক বছরের সভাপতিত্বের প্রথম বড় ইভেন্ট হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মঙ্গলবার বলেছে যে, তারা বিশ্বব্যাংক, ভারত, চীন, সৌদি আরব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য ধনী গ্রুপ অফ সেভেন (জি৭) গণতন্ত্রের সাথে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করবে। সেখানে তারা দুর্দশাগ্রস্ত দেশের ঋণ পুনর্গঠন কিভাবে করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করবে।

চীন এবং অন্যান্য জি-২০ দেশগুলো ভারতের এ কাজ করা নিয়ে আগে থেকেই অবগত ছিল। এ বিষয়ে চীন জানায়, তারা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণের সমস্যাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রাসঙ্গিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমর্থন করছে।

নয়াদিল্লি আশা করে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান সমর্থক হবে। তবে মার্কিন ট্রেজারির একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ভারতের দুই প্রতিবেশী পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ফুরিয়ে যাওয়ার আগে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সাহায্য চেয়েছে।

ভারত এবং প্যারিস ক্লাব অফ ক্রেডিটার্স সম্প্রতি আইএমএফ কে বলেছে যে তারা শ্রীলঙ্কার ঋণ পুনর্গঠন পরিকল্পনাকে সমর্থন করছে কারণ দেউলিয়া দেশটি তাদের কাছে ২৯ কোটির ঋণ আবেদন করে।

চীনের রপ্তানি-আমদানি ব্যাংক শ্রীলঙ্কাকে তার ঋণের জন্য দুই বছরের স্থগিতাদেশ দিয়েছে এবং বলেছে যে এটি একটি আইএমএফ প্রোগ্রাম সুরক্ষিত করার জন্য দেশটির প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে। শ্রীলঙ্কার সরকারের একটি সূত্র বলছে যে এটি যথেষ্ট নয়।

আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথাকথিত কমন ফ্রেমওয়ার্কের জন্য চাপ দিচ্ছে। এটি একটি জি-২০ উদ্যোগ যা ২০২০ সালে চালু করা হয়েছিল দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণ পরিশোধে সাহায্য করার জন্য।

ডিসেম্বরে, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেন যে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতাদের কাছে বার্ষিক ঋণ পরিষেবার জন্য ৬২০ কোটি পাওনা রয়েছে, যা বছরে ৩৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক