০২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ভারত-জার্মানী সম্পর্কের মূল স্তম্ভ প্রতিরক্ষা-নিরাপত্তা: মোদী

দু’দিনের সফরে শনিবার ভারতে এসেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ। চ্যান্সেলার পদে আসীন হওয়ার পর এই প্রথম ভারত সফরে এসেছেন তিনি। এ দিন রাষ্ট্রপতি ভবনে সাদরে আমন্ত্রণ জানানো হয় তাঁকে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ একাধিক প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। আজ মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন শোলজ। ক্লিন এনার্জি, বাণিজ্য ও নয়া প্রযুক্তি নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। এই বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে মোদী বলেন, ইউরোপে ভারতের সবথেকে বড় বাণিজ্য অংশীদার হল জার্মানি।

এ দিন বৈঠকের আগেই শোলজ সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেছেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের ইতিমধ্যেই ভাল সম্পর্ক রয়েছে। আমি আশা করে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। আশা করি আমরা আমাদের দেশের উন্নয়ন এবং বিশ্বের শান্তির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক সমস্ত বিষয় নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করব।” এ দিন একাধিক বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

বৈঠক শেষে দিল্লিতে হায়দরাবাদ হাউস থেকে একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন থেকে জানিয়েছেন, “দুই দেশের মধ্যে গভীর বোঝাপড়ার উপর ভিত্তি করে ভারত ও জার্মানির সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমাদের বাণিজ্য বিনিময়ের ইতিহাস রয়েছে। জার্মানি ইউরোপে আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যের অংশীদার।”

তিনি আরও জানিয়েছেন, ইউরোপে আমাদের বাণিজ্যের সর্ববৃহৎ অংশীদার হওয়া ছাড়াও ভারতে বিনিয়োগের অন্যতম একটি উৎস হল জার্মানি। তিনি বলেন, “একে অপরের স্বার্থের অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে ভারত ও জার্মানির মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।”

এই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মোদী বলেন, “বিগত কয়েক বছরে দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আজ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের ফলে সমস্ত ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ এসেছে। আমরা এই সুযোগগুলোতে জার্মানির আগ্রহ দেখে উত্সাহিত হয়েছি।”

অন্যদিকে জার্মান চ্যান্সেলর শোলজ বলেছেন, “আমাদের দরকার মেধা ও দক্ষ কর্মীর। ভারতে তথ্য প্রযুক্তি ও সফ্টওয়্যারের বিকাশ হচ্ছে এবং অনেক সক্ষম সংস্থা ভারতে রয়েছে। ভারতে এত প্রতিভা রয়েছে এবং আমরা তা থেকে উপকৃত হতে চাই। আমরা জার্মানিতে সেই প্রতিভা নিয়োগ করতে চাই।”

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের কথাও উঠে এসেছে তাঁদের আলোচনায়। শোলজ বলেছেন, “ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ গোটা বিশ্বে একটি বড় বিপর্যয় নিয়ে এসেছে। কারণ আমরা জানি এই যুদ্ধ অর্থনৈতিক নীতিগুলি লঙ্ঘন করে। প্রায় ১,৮০০ জার্মান সংস্থা ভারতে সক্রিয় এবং হাজার হাজার চাকরি দিয়েছে।”

তিনি রাশিয়ার আগ্রাসনকে ভর্ৎসনা করে বলেছেন, “রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রভাবে গোটা বিশ্ব ভুগছে। খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহ অবিচ্ছিন্ন রাখতে নিশ্চিত করা হচ্ছে।” তিনি ভারতের প্রশংসায় বলেছেন, “এই সময়ে ভারতের অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের জন্য তা ভাল।”

এ দিন ফের একবার আলোচনার মাধ্যমে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হতেই ভারত আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে এই বিরোধ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। ভারত যে কোনও শান্তি প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে প্রস্তুত। নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে।” খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

ভারত-জার্মানী সম্পর্কের মূল স্তম্ভ প্রতিরক্ষা-নিরাপত্তা: মোদী

প্রকাশ: ০৮:৩৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

দু’দিনের সফরে শনিবার ভারতে এসেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ। চ্যান্সেলার পদে আসীন হওয়ার পর এই প্রথম ভারত সফরে এসেছেন তিনি। এ দিন রাষ্ট্রপতি ভবনে সাদরে আমন্ত্রণ জানানো হয় তাঁকে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ একাধিক প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। আজ মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন শোলজ। ক্লিন এনার্জি, বাণিজ্য ও নয়া প্রযুক্তি নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। এই বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে মোদী বলেন, ইউরোপে ভারতের সবথেকে বড় বাণিজ্য অংশীদার হল জার্মানি।

এ দিন বৈঠকের আগেই শোলজ সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেছেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের ইতিমধ্যেই ভাল সম্পর্ক রয়েছে। আমি আশা করে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। আশা করি আমরা আমাদের দেশের উন্নয়ন এবং বিশ্বের শান্তির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক সমস্ত বিষয় নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করব।” এ দিন একাধিক বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

বৈঠক শেষে দিল্লিতে হায়দরাবাদ হাউস থেকে একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন থেকে জানিয়েছেন, “দুই দেশের মধ্যে গভীর বোঝাপড়ার উপর ভিত্তি করে ভারত ও জার্মানির সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমাদের বাণিজ্য বিনিময়ের ইতিহাস রয়েছে। জার্মানি ইউরোপে আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যের অংশীদার।”

তিনি আরও জানিয়েছেন, ইউরোপে আমাদের বাণিজ্যের সর্ববৃহৎ অংশীদার হওয়া ছাড়াও ভারতে বিনিয়োগের অন্যতম একটি উৎস হল জার্মানি। তিনি বলেন, “একে অপরের স্বার্থের অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে ভারত ও জার্মানির মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।”

এই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মোদী বলেন, “বিগত কয়েক বছরে দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আজ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের ফলে সমস্ত ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ এসেছে। আমরা এই সুযোগগুলোতে জার্মানির আগ্রহ দেখে উত্সাহিত হয়েছি।”

অন্যদিকে জার্মান চ্যান্সেলর শোলজ বলেছেন, “আমাদের দরকার মেধা ও দক্ষ কর্মীর। ভারতে তথ্য প্রযুক্তি ও সফ্টওয়্যারের বিকাশ হচ্ছে এবং অনেক সক্ষম সংস্থা ভারতে রয়েছে। ভারতে এত প্রতিভা রয়েছে এবং আমরা তা থেকে উপকৃত হতে চাই। আমরা জার্মানিতে সেই প্রতিভা নিয়োগ করতে চাই।”

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের কথাও উঠে এসেছে তাঁদের আলোচনায়। শোলজ বলেছেন, “ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ গোটা বিশ্বে একটি বড় বিপর্যয় নিয়ে এসেছে। কারণ আমরা জানি এই যুদ্ধ অর্থনৈতিক নীতিগুলি লঙ্ঘন করে। প্রায় ১,৮০০ জার্মান সংস্থা ভারতে সক্রিয় এবং হাজার হাজার চাকরি দিয়েছে।”

তিনি রাশিয়ার আগ্রাসনকে ভর্ৎসনা করে বলেছেন, “রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রভাবে গোটা বিশ্ব ভুগছে। খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহ অবিচ্ছিন্ন রাখতে নিশ্চিত করা হচ্ছে।” তিনি ভারতের প্রশংসায় বলেছেন, “এই সময়ে ভারতের অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের জন্য তা ভাল।”

এ দিন ফের একবার আলোচনার মাধ্যমে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হতেই ভারত আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে এই বিরোধ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। ভারত যে কোনও শান্তি প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে প্রস্তুত। নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে।” খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক