০২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শেষ হলো জি-২০ গ্রুপের দ্বিতীয় পর্যটন সম্মেলন

দার্জিলিংয়ে শেষ হলো জি-২০ গ্রুপের পর্যটন বিষয়ক দ্বিতীয় সম্মেলন। এপ্রিলের প্রথম দিন শুরু হয়ে বৈঠকটি চলে চার তারিখ অবধি। গত শুক্রবার এই সামিট নিয়ে শিলিগুড়ির মে ফেয়ার রিসোর্টে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় পর্যটন দপ্তরের সেক্রেটারি অরবিন্দ সিং। সেখানে তিনি জানান, এই সামিটের মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গ পাহাড় সহ বিভিন্ন জায়গাগুলির যে ঐতিহ্য এবং ইতিহাস রয়েছে তা বিদেশী প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হবে।

অথিতিদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য গত কয়কদিন ধরে সাজ-সাজ রব চলেছে শিলিগুড়িতে। সমস্ত প্রস্তুতির সমাপ্তিটা হয়েছে অত্যন্ত সুন্দর। বৈঠকের প্রথম দিনই বাগডোগরা বিমান বন্দরে পৌঁছবেন জি-২০-এর সদস্য ভুক্ত প্রায় দুশোজন বিদেশি অতিথি।

জানা গিয়েছে, বৈঠকের শুরুতেই সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে সরাসরি চলে যান নিউ চামটা রিসোর্টে। এরপর সেখান থেকে কার্শিয়াং-এর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখান থেকে মকাইবাড়ি চা বাগান সহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখানো হয় তাদের।

এরপর সন্ধ্যাবেলায় চা বাগানে চাঁদের আলোর মাঝে চা পাতা তোলার সৌন্দর্য প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হয়। মকাই বাড়ির চা কারখানায় চা কিভাবে তৈরি হয় সেই দৃশ্য বিদেশি অতিথিদের দেখানো হয়। সেখানে রাতের খাবার সেরে তাঁরা আবার শিলিগুড়িতে ফিরেন বলে সূত্রে খবর।

এছাড়া, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম নিয়ে মকাই বাড়ির কাছেই একটি রিসোর্টে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। ২ তারিখ সোমবার ট্যুরিজম ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক চামটা চা রিসর্টে অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বিদেশি অতিথিদের দার্জিলিঙয়ের ঘুম রেল স্টেশন, বাতাসিয়া লুপ, দার্জিলিং রেলওয়ে স্টেশন এবং রাজভবন ঘুরিয়ে দেখানোর বন্দোবস্ত করা হয়। পাশাপাশি এদিন দার্জিলিঙয়ে ম্যালের চৌরাস্তায় অতিথিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন পর্যটন মন্ত্রক। ৪ তারিখ বুধবার অতিথিরা বিদায় নেন।

এই চারদিন অতিথিদের দেখভালের দায়িত্ব ছিলো পর্যটন মন্ত্রকের উপর।  প্রায় ৪০ জন প্রশিক্ষিত গাইডের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সুত্রে খবর। গাইডরা জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বিদেশি অতিথিদের কাছে বিভিন্ন অঞ্চল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

ইতিমধ্যেই কার্শিয়াং সহ সেবকের কর্নেশন সেতু, চাপড়ামারি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি, বেঙ্গল সাফারি পার্ক, পাহাড়ের বেশ কয়েকটি গুম্ফা সহ মোট ২৩টি জায়গাকে চিহ্নিত করে ফোটোগ্রাফি করা হয়েছে। বাদ যায়নি শিলিগুড়ির ইসকন মন্দির সহ বাঘাযতীন পার্ক এর মাতৃভাষা স্মারক মঞ্চ এবং রবীন্দ্র মঞ্চ।

২ তারিখ বৈঠকের সময় অতিথিদের কাছে এইসব অঞ্চলের ছবিগুলি তুলে ধরা হয়। সেদিন উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও পর্যটন মন্ত্রী জি কিসান রেড্ডি, পর্যটন সচিব অরবিন্দ সিং সহ বিশিষ্টজনেরা। জি -২০ সম্মেলনকে সামনে রেখে পর্যটনে জোয়ার আনতে “ভিজিট ইন্ডিয়া – ২০২৩” স্লোগানকে সামনে রেখেছে পর্যটন মন্ত্রক।

উল্লেখ্য, একটা সময় সিকিম এবং দার্জিলিং-এ বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ হাজার বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা ছিল। কোভিডের পরে সেই সংখ্যাটা অনেকটাই কমে গিয়েছে। দেশি পর্যটক যেমন কমেছে একইভাবে কমেছে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যাও। এই পরিস্তিতিতে দার্জিলিংয়ের জি -২০ ট্যুরিজম ওয়ার্কিং গ্রুপের সম্মেলন হওয়ায় পর্যটনশিল্পের হাল আবার ফিরতে পারে বলে মনে করছে পর্যটন মন্ত্রক। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

শেষ হলো জি-২০ গ্রুপের দ্বিতীয় পর্যটন সম্মেলন

প্রকাশ: ১১:২৭:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ এপ্রিল ২০২৩

দার্জিলিংয়ে শেষ হলো জি-২০ গ্রুপের পর্যটন বিষয়ক দ্বিতীয় সম্মেলন। এপ্রিলের প্রথম দিন শুরু হয়ে বৈঠকটি চলে চার তারিখ অবধি। গত শুক্রবার এই সামিট নিয়ে শিলিগুড়ির মে ফেয়ার রিসোর্টে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় পর্যটন দপ্তরের সেক্রেটারি অরবিন্দ সিং। সেখানে তিনি জানান, এই সামিটের মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গ পাহাড় সহ বিভিন্ন জায়গাগুলির যে ঐতিহ্য এবং ইতিহাস রয়েছে তা বিদেশী প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হবে।

অথিতিদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য গত কয়কদিন ধরে সাজ-সাজ রব চলেছে শিলিগুড়িতে। সমস্ত প্রস্তুতির সমাপ্তিটা হয়েছে অত্যন্ত সুন্দর। বৈঠকের প্রথম দিনই বাগডোগরা বিমান বন্দরে পৌঁছবেন জি-২০-এর সদস্য ভুক্ত প্রায় দুশোজন বিদেশি অতিথি।

জানা গিয়েছে, বৈঠকের শুরুতেই সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে সরাসরি চলে যান নিউ চামটা রিসোর্টে। এরপর সেখান থেকে কার্শিয়াং-এর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখান থেকে মকাইবাড়ি চা বাগান সহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখানো হয় তাদের।

এরপর সন্ধ্যাবেলায় চা বাগানে চাঁদের আলোর মাঝে চা পাতা তোলার সৌন্দর্য প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হয়। মকাই বাড়ির চা কারখানায় চা কিভাবে তৈরি হয় সেই দৃশ্য বিদেশি অতিথিদের দেখানো হয়। সেখানে রাতের খাবার সেরে তাঁরা আবার শিলিগুড়িতে ফিরেন বলে সূত্রে খবর।

এছাড়া, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম নিয়ে মকাই বাড়ির কাছেই একটি রিসোর্টে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। ২ তারিখ সোমবার ট্যুরিজম ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক চামটা চা রিসর্টে অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বিদেশি অতিথিদের দার্জিলিঙয়ের ঘুম রেল স্টেশন, বাতাসিয়া লুপ, দার্জিলিং রেলওয়ে স্টেশন এবং রাজভবন ঘুরিয়ে দেখানোর বন্দোবস্ত করা হয়। পাশাপাশি এদিন দার্জিলিঙয়ে ম্যালের চৌরাস্তায় অতিথিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন পর্যটন মন্ত্রক। ৪ তারিখ বুধবার অতিথিরা বিদায় নেন।

এই চারদিন অতিথিদের দেখভালের দায়িত্ব ছিলো পর্যটন মন্ত্রকের উপর।  প্রায় ৪০ জন প্রশিক্ষিত গাইডের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সুত্রে খবর। গাইডরা জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বিদেশি অতিথিদের কাছে বিভিন্ন অঞ্চল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

ইতিমধ্যেই কার্শিয়াং সহ সেবকের কর্নেশন সেতু, চাপড়ামারি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি, বেঙ্গল সাফারি পার্ক, পাহাড়ের বেশ কয়েকটি গুম্ফা সহ মোট ২৩টি জায়গাকে চিহ্নিত করে ফোটোগ্রাফি করা হয়েছে। বাদ যায়নি শিলিগুড়ির ইসকন মন্দির সহ বাঘাযতীন পার্ক এর মাতৃভাষা স্মারক মঞ্চ এবং রবীন্দ্র মঞ্চ।

২ তারিখ বৈঠকের সময় অতিথিদের কাছে এইসব অঞ্চলের ছবিগুলি তুলে ধরা হয়। সেদিন উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও পর্যটন মন্ত্রী জি কিসান রেড্ডি, পর্যটন সচিব অরবিন্দ সিং সহ বিশিষ্টজনেরা। জি -২০ সম্মেলনকে সামনে রেখে পর্যটনে জোয়ার আনতে “ভিজিট ইন্ডিয়া – ২০২৩” স্লোগানকে সামনে রেখেছে পর্যটন মন্ত্রক।

উল্লেখ্য, একটা সময় সিকিম এবং দার্জিলিং-এ বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ হাজার বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা ছিল। কোভিডের পরে সেই সংখ্যাটা অনেকটাই কমে গিয়েছে। দেশি পর্যটক যেমন কমেছে একইভাবে কমেছে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যাও। এই পরিস্তিতিতে দার্জিলিংয়ের জি -২০ ট্যুরিজম ওয়ার্কিং গ্রুপের সম্মেলন হওয়ায় পর্যটনশিল্পের হাল আবার ফিরতে পারে বলে মনে করছে পর্যটন মন্ত্রক। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক