০১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ

সাদিয়া রহমান: মুক্তিযুদ্ধ শেষে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে লন্ডন-দিল্লী হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী স্বদেশে ফিরেন বঙ্গবন্ধু। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয় ভূমিকার যৌথ মেলবন্ধনে তিনি সরাসরি শাসন ক্ষমতায় ছিলেন ০৩ বছর ০৭ মাস ০৫ দিন। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে বিশ্ব স্বীকৃত রাষ্ট্র হিসেবে ‘বাংলাদেশ’ ভূখন্ডে বঙ্গবন্ধুর জীবনকাল প্রায় সাড়ে তিন বছর। নবজাতক রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সাফল্য-ব্যর্থতার পরিসংখ্যান সংখ্যার নিরিখে দেখানো সম্ভবপর নয়। বরঞ্চ, তিনি যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিলেন; তা কতটা দৃঢ়তায় মোকাবেলা করতে পেরেছিলেন, সেটিই তাঁর শাসনকালের প্রকৃত মূল্যায়ন।

দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে সবাই বিপর্যস্ত অর্থনীতি, বিকলাঙ্গ যোগাযোগব্যবস্থা, অপ্রতুল শিল্প উৎপাদন’র কথা বললেও, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিলো মিত্রবাহিনীর ভারতীয় সদস্যদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের বন্দোবস্ত করা ও বিশ্ব সমাজের স্বীকৃতি আদায়। নচেৎ, স্বাধীন বাংলাদেশ হয়তো ভারতীয় ঔপনিবেশে পরিণত হতো। দুটোরই সমাধান তিনি করেন চমৎকার বুদ্ধিমত্তায়। পূর্বোক্ত সমস্যাদির সমাধানেও তিনি পদক্ষেপ নেন। দু’মাসেরও কম সময়ে মিত্রবাহিনীর বিদায়, স্বল্প শাসনকালেই পঞ্চাশোর্ধ দেশের স্বীকৃতি, জাতিসংঘ-কমনওয়েলথ-ওআইসি’সহ বিশ্ব প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ; বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক দক্ষতারই দৃষ্টান্ত।

পথহীন দেশকে প্রথম বছরেই সংবিধান উপহার, রাষ্ট্রীয়-সামরিক কাঠামোর ভিত্তিস্থাপন, ভারতের সঙ্গে অতিগুরুত্বপূর্ণ পানি ও সীমান্ত চুক্তি এবং যমুনা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম ইত্যাদি সবই বঙ্গবন্ধুর তত্ত্বাবধানে করা। এদেশে বিজ্ঞান ও শুদ্ধ ধর্মীয় চর্চার ভিত রচনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন, তাঁরই কৃতিত্ব।

তথাপি কারুর শাসনামলই সমালোচনার উর্ধ্বে না। বঙ্গবন্ধুও ব্যতিক্রম নন। তাঁর শাসনামলেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ প্রভূত অভিযোগ বিদ্যমান। তবে, সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় আঙ্গিকে বাংলাদেশের শ্রেণী-সমাজ ও শাসক বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু অতুলনীয়। তাঁর ভূমিকা রাষ্ট্রপিতার চেয়েও বেশি। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতাই কেবল নন, হামাগুড়ি দেয়া রাষ্ট্রের পথপ্রদর্শকও তিনি। সেজন্যেই তাঁর গুণমুগ্ধ মাত্রই বলেন, বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ।

লেখক: সাদিয়া রহমান, শিক্ষার্থী, এগ্রিকালচার ডিপার্টমেন্ট, নোবিপ্রবি, ১৩ ব্যাচ, sadiarahaman79@gmail.com

ট্যাগ:

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৮:১৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৩

সাদিয়া রহমান: মুক্তিযুদ্ধ শেষে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে লন্ডন-দিল্লী হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী স্বদেশে ফিরেন বঙ্গবন্ধু। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয় ভূমিকার যৌথ মেলবন্ধনে তিনি সরাসরি শাসন ক্ষমতায় ছিলেন ০৩ বছর ০৭ মাস ০৫ দিন। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে বিশ্ব স্বীকৃত রাষ্ট্র হিসেবে ‘বাংলাদেশ’ ভূখন্ডে বঙ্গবন্ধুর জীবনকাল প্রায় সাড়ে তিন বছর। নবজাতক রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সাফল্য-ব্যর্থতার পরিসংখ্যান সংখ্যার নিরিখে দেখানো সম্ভবপর নয়। বরঞ্চ, তিনি যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিলেন; তা কতটা দৃঢ়তায় মোকাবেলা করতে পেরেছিলেন, সেটিই তাঁর শাসনকালের প্রকৃত মূল্যায়ন।

দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে সবাই বিপর্যস্ত অর্থনীতি, বিকলাঙ্গ যোগাযোগব্যবস্থা, অপ্রতুল শিল্প উৎপাদন’র কথা বললেও, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিলো মিত্রবাহিনীর ভারতীয় সদস্যদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের বন্দোবস্ত করা ও বিশ্ব সমাজের স্বীকৃতি আদায়। নচেৎ, স্বাধীন বাংলাদেশ হয়তো ভারতীয় ঔপনিবেশে পরিণত হতো। দুটোরই সমাধান তিনি করেন চমৎকার বুদ্ধিমত্তায়। পূর্বোক্ত সমস্যাদির সমাধানেও তিনি পদক্ষেপ নেন। দু’মাসেরও কম সময়ে মিত্রবাহিনীর বিদায়, স্বল্প শাসনকালেই পঞ্চাশোর্ধ দেশের স্বীকৃতি, জাতিসংঘ-কমনওয়েলথ-ওআইসি’সহ বিশ্ব প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ; বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক দক্ষতারই দৃষ্টান্ত।

পথহীন দেশকে প্রথম বছরেই সংবিধান উপহার, রাষ্ট্রীয়-সামরিক কাঠামোর ভিত্তিস্থাপন, ভারতের সঙ্গে অতিগুরুত্বপূর্ণ পানি ও সীমান্ত চুক্তি এবং যমুনা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম ইত্যাদি সবই বঙ্গবন্ধুর তত্ত্বাবধানে করা। এদেশে বিজ্ঞান ও শুদ্ধ ধর্মীয় চর্চার ভিত রচনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন, তাঁরই কৃতিত্ব।

তথাপি কারুর শাসনামলই সমালোচনার উর্ধ্বে না। বঙ্গবন্ধুও ব্যতিক্রম নন। তাঁর শাসনামলেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ প্রভূত অভিযোগ বিদ্যমান। তবে, সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় আঙ্গিকে বাংলাদেশের শ্রেণী-সমাজ ও শাসক বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু অতুলনীয়। তাঁর ভূমিকা রাষ্ট্রপিতার চেয়েও বেশি। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতাই কেবল নন, হামাগুড়ি দেয়া রাষ্ট্রের পথপ্রদর্শকও তিনি। সেজন্যেই তাঁর গুণমুগ্ধ মাত্রই বলেন, বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ।

লেখক: সাদিয়া রহমান, শিক্ষার্থী, এগ্রিকালচার ডিপার্টমেন্ট, নোবিপ্রবি, ১৩ ব্যাচ, sadiarahaman79@gmail.com