০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ব্রিকস সম্প্রসারণে আগ্রহী ভারত: মোদী

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে পাঁচ দেশের জোট ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন। তিন দিনের এই সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল জোহানেসবার্গে পৌঁছান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডা সিলভা। করোনা মহামারির পর প্রথম বারের মতো শীর্ষ নেতাদের সরাসরি উপস্থিতিতে এই সম্মেলন হচ্ছে।

তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে তিনি ভার্চুয়ালি এই সম্মেলনে যোগ দেবেন। এছাড়া রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেগেই ল্যাভরভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত ব্রিকসের এবারের শীর্ষ সম্মেলনে জোটের সদস্য বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। কিছু সদস্যরাষ্ট্র পশ্চিমাদের প্রভাব মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে এই জোটটি সম্প্রসারিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে এই প্রচেষ্টা চলছে।

গতকাল চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠককালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জানান, ব্রিকসে নতুন সদস্য নেওয়ার ব্যাপারে চীনের সঙ্গে তাদের কোনো দ্বিমত নেই। তিনি বলেন, আমরাও চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একমত যে, ব্রিকস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম যা বিশ্বব্যাপী শাসন ব্যবস্থার সংস্কার এবং বিশ্ব জুড়ে বহুপাক্ষিকতা ও সহযোগিতার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছানোর পর বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই শীর্ষ সম্মেলনটি ব্রিকস ম্যাকানিজমের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

তবে ব্রিকসে সদস্য বাড়ানো নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। নতুন সদস্য করার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী রাশিয়া। বলা চলে, এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কূটনৈতিকভাবে তারা যে একঘরে হয়ে গেছে সেখান থেকে বের হতে চাইছে। তবে ভারত তাড়াহুড়ো করে সদস্য বাড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তারা বলছেন, ৪০টিরও বেশি দেশ ব্রিকসে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের মধ্যে প্রায় দুই ডজন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য হতে চেয়েছে। কেউ কেউ জোহানেসবার্গে প্রতিনিধিদল পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সদস্য বাড়ানো ছাড়াও জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোও শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার আয়োজকরা বলছেন, একটি ব্রিকস মুদ্রা নিয়ে কোনো আলোচনা এবারের সম্মেলনে হবে না।

প্রসঙ্গত, ব্রিকস হলো উদীয়মান পাঁচ অর্থনীতির দেশের জোট। এসব দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির এক-চতুর্থাংশ এবং এসব দেশে বিশ্বের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি বাস করে। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগ:

ব্রিকস সম্প্রসারণে আগ্রহী ভারত: মোদী

প্রকাশ: ০৬:৩২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৩

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে পাঁচ দেশের জোট ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন। তিন দিনের এই সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল জোহানেসবার্গে পৌঁছান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডা সিলভা। করোনা মহামারির পর প্রথম বারের মতো শীর্ষ নেতাদের সরাসরি উপস্থিতিতে এই সম্মেলন হচ্ছে।

তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে তিনি ভার্চুয়ালি এই সম্মেলনে যোগ দেবেন। এছাড়া রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেগেই ল্যাভরভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত ব্রিকসের এবারের শীর্ষ সম্মেলনে জোটের সদস্য বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। কিছু সদস্যরাষ্ট্র পশ্চিমাদের প্রভাব মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে এই জোটটি সম্প্রসারিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে এই প্রচেষ্টা চলছে।

গতকাল চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠককালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জানান, ব্রিকসে নতুন সদস্য নেওয়ার ব্যাপারে চীনের সঙ্গে তাদের কোনো দ্বিমত নেই। তিনি বলেন, আমরাও চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একমত যে, ব্রিকস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম যা বিশ্বব্যাপী শাসন ব্যবস্থার সংস্কার এবং বিশ্ব জুড়ে বহুপাক্ষিকতা ও সহযোগিতার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছানোর পর বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই শীর্ষ সম্মেলনটি ব্রিকস ম্যাকানিজমের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

তবে ব্রিকসে সদস্য বাড়ানো নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। নতুন সদস্য করার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী রাশিয়া। বলা চলে, এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কূটনৈতিকভাবে তারা যে একঘরে হয়ে গেছে সেখান থেকে বের হতে চাইছে। তবে ভারত তাড়াহুড়ো করে সদস্য বাড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তারা বলছেন, ৪০টিরও বেশি দেশ ব্রিকসে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের মধ্যে প্রায় দুই ডজন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য হতে চেয়েছে। কেউ কেউ জোহানেসবার্গে প্রতিনিধিদল পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সদস্য বাড়ানো ছাড়াও জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোও শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার আয়োজকরা বলছেন, একটি ব্রিকস মুদ্রা নিয়ে কোনো আলোচনা এবারের সম্মেলনে হবে না।

প্রসঙ্গত, ব্রিকস হলো উদীয়মান পাঁচ অর্থনীতির দেশের জোট। এসব দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির এক-চতুর্থাংশ এবং এসব দেশে বিশ্বের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি বাস করে। খবর: ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক