০৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

জাবিতে ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে উত্যক্তের অভিযোগ আনলেন ছাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারী শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত, হেনস্তা এবং মাদক সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬ ব্যাচের আইআইটি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান ইমনের বিরুদ্ধে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক।

ইতোমধ্যে, ইমনের অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে প্রক্টর বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৭ ব্যাচের একজন এবং ইমনের বিভাগেরই (আইআইটি) আরেক জুনিয়ার একজন ছাত্রী।

জানতে চাইলে ৪৭ ব্যাচের ভূক্তভোগী সেই ছাত্রী বলেন, “উনি (ইমন) প্রায়ই আমাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং এর বাইরে নানাভাবে উত্যক্ত করার চেষ্টা করেন। তার (ইমন) অত্যাচার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা রীতিমতো আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে চলার পথে বাঁধা সৃষ্টি করছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমকেও ব্যহত করছে। তাকে বারণ সত্ত্বেও সে একই ধরণের কাজ চলমান রেখেছে। উপায় না পেয়ে আমি আমাদের প্রক্টর স্যার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি প্রায় মাস দুয়েক আগে। স্যার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।”

অন্যদিকে, ইমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হেনস্তার শিকার তারই বিভাগের জুনিয়ার ছাত্রী বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে (ইমন) আমাকে নানাভাবে হয়রানির চেষ্টা করলেও আমি তার প্রলোভনে সাড়া না দেয়ায়, সে আমাকে হলের সামনে এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় উত্যক্ত করেছে। বাধ্য হয়ে আমি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছি।”

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মেয়েকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত উত্যক্ত করে ইমন। এর মাঝে কয়েকজনকে একান্তে দেখার করার বিষয়েও জোর করার চেষ্টা করে সে, যার স্ক্রিনশট ইতোমধ্যে এই প্রতিনিধির কাছে এসেছে। তাছাড়া, পিস্তল হাতে নিয়ে মেয়েদের ইনবক্সে ছবি পাঠানোর বিষয়েও ইমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, তবে এই অভিযোগটির সত্যতা নিরুপণ করা সম্ভবপর হয়নি।

এ ব্যাপারে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকে ফোন দেয়ার পর তিনি বলেন, “অভিযোগটি আমি ইতোমধ্যে পেয়েছি। যাচাই বাছাই করে এ ব্যাপারে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।”

খবর নিয়ে জানা যায়, ক্যাম্পাস জীবনের শুরু থেকেই রেডিও কলোনি এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ইমন। সম্প্রতি মাদক কান্ড ও নারী ঘটিত সমস্যার কারণে সেই বাসাটিও তাকে ছেড়ে দিতে হয়েছে। বাসার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ইমন আমার বাসায় প্রায় চার বছর যাবত থাকে। ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র থাকাবস্থাতেই সে আমার এখানে উঠেছিলো। তার পরিবারের সঙ্গেও আমার বেশ ভালো যোগাযোগ রয়েছে। আমার বাড়ির প্রথম ভাড়াটিয়া হিসেবে তার প্রতি আমার কিছুটা স্নেহ কাজ করতো। কিন্তু বিগত কয়েক মাস যাবত আমরা তার (ইমন) অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করি। প্রায়ই নিয়ম করে অতিরিক্ত রাতে বাড়ি ফেরা, কথাবার্তায় অসংলগ্নতা, আচরণে রূঢ়তা, বাড়ির গেইট খোলা রেখে চলাফেরা, বহিরাগতদের নিয়ে বাসায় মাদকের আসর বসানো ইত্যাদি নানা কারণে তার সঙ্গে আমার মতবিরোধ দেখা দেয়। এর প্রেক্ষিতে তাকে আমি কয়েকবার বাড়ি ছাড়বার নোটিশ দিলেও পরবর্তীতে সে ক্ষমা চাওয়ায় আমি তাকে থাকার অনুমতি দিই।”

বাড়িওয়ালা আরও জানান, “কিন্তু সম্প্রতি সে তার সঙ্গে ঢের পরিমাণ মাদক ও অচেনা একজন মেয়ে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে, যা জানতে পেরে তার সঙ্গে আমার বাগবিতণ্ডা হয়। জবাবদিহিতা চাইতে গেলে, সে আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি অবধি দিয়েছে এবং যেকোনোভাবেই হোক আমার ক্ষতি করবে বলে জানায়। অগত্যা তাকে বাড়ি থেকে বের করতে স্থানীয়দের সাহায্য নিতে হয় আমাকে।”

এদিকে, ইমনের সহপাঠী ও জুনিয়ারদের থেকেও পাওয়া গেলো প্রায় একই ধরণের অভিযোগ! নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইমনের সঙ্গে একই ক্লাসে অধ্যয়ন করা তার এক বন্ধু জানান, “সে (ইমন) একজন পুরোদস্তুর ফেম এবং ড্রাগ এডিক্ট! সিম্প্যাথি গেইন করে ভাইরাল হওয়ার জন্যই এমন কাজ করেছে। আদতে সে নিজেই একজন আপাদমস্তক মাদকসেবী।”

ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলতে ইমনকে ফোন দেয়া হলেও তার ফোন নাম্বারটি বন্ধ দেখায়। অন্যদিকে, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনিও কল রিসিভ করেননি।

ট্যাগ:

জাবিতে ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে উত্যক্তের অভিযোগ আনলেন ছাত্রী

প্রকাশ: ১১:৪৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারী শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত, হেনস্তা এবং মাদক সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬ ব্যাচের আইআইটি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান ইমনের বিরুদ্ধে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক।

ইতোমধ্যে, ইমনের অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে প্রক্টর বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৭ ব্যাচের একজন এবং ইমনের বিভাগেরই (আইআইটি) আরেক জুনিয়ার একজন ছাত্রী।

জানতে চাইলে ৪৭ ব্যাচের ভূক্তভোগী সেই ছাত্রী বলেন, “উনি (ইমন) প্রায়ই আমাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং এর বাইরে নানাভাবে উত্যক্ত করার চেষ্টা করেন। তার (ইমন) অত্যাচার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা রীতিমতো আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে চলার পথে বাঁধা সৃষ্টি করছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমকেও ব্যহত করছে। তাকে বারণ সত্ত্বেও সে একই ধরণের কাজ চলমান রেখেছে। উপায় না পেয়ে আমি আমাদের প্রক্টর স্যার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি প্রায় মাস দুয়েক আগে। স্যার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।”

অন্যদিকে, ইমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হেনস্তার শিকার তারই বিভাগের জুনিয়ার ছাত্রী বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে (ইমন) আমাকে নানাভাবে হয়রানির চেষ্টা করলেও আমি তার প্রলোভনে সাড়া না দেয়ায়, সে আমাকে হলের সামনে এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় উত্যক্ত করেছে। বাধ্য হয়ে আমি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছি।”

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মেয়েকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত উত্যক্ত করে ইমন। এর মাঝে কয়েকজনকে একান্তে দেখার করার বিষয়েও জোর করার চেষ্টা করে সে, যার স্ক্রিনশট ইতোমধ্যে এই প্রতিনিধির কাছে এসেছে। তাছাড়া, পিস্তল হাতে নিয়ে মেয়েদের ইনবক্সে ছবি পাঠানোর বিষয়েও ইমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, তবে এই অভিযোগটির সত্যতা নিরুপণ করা সম্ভবপর হয়নি।

এ ব্যাপারে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকে ফোন দেয়ার পর তিনি বলেন, “অভিযোগটি আমি ইতোমধ্যে পেয়েছি। যাচাই বাছাই করে এ ব্যাপারে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।”

খবর নিয়ে জানা যায়, ক্যাম্পাস জীবনের শুরু থেকেই রেডিও কলোনি এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ইমন। সম্প্রতি মাদক কান্ড ও নারী ঘটিত সমস্যার কারণে সেই বাসাটিও তাকে ছেড়ে দিতে হয়েছে। বাসার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ইমন আমার বাসায় প্রায় চার বছর যাবত থাকে। ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র থাকাবস্থাতেই সে আমার এখানে উঠেছিলো। তার পরিবারের সঙ্গেও আমার বেশ ভালো যোগাযোগ রয়েছে। আমার বাড়ির প্রথম ভাড়াটিয়া হিসেবে তার প্রতি আমার কিছুটা স্নেহ কাজ করতো। কিন্তু বিগত কয়েক মাস যাবত আমরা তার (ইমন) অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করি। প্রায়ই নিয়ম করে অতিরিক্ত রাতে বাড়ি ফেরা, কথাবার্তায় অসংলগ্নতা, আচরণে রূঢ়তা, বাড়ির গেইট খোলা রেখে চলাফেরা, বহিরাগতদের নিয়ে বাসায় মাদকের আসর বসানো ইত্যাদি নানা কারণে তার সঙ্গে আমার মতবিরোধ দেখা দেয়। এর প্রেক্ষিতে তাকে আমি কয়েকবার বাড়ি ছাড়বার নোটিশ দিলেও পরবর্তীতে সে ক্ষমা চাওয়ায় আমি তাকে থাকার অনুমতি দিই।”

বাড়িওয়ালা আরও জানান, “কিন্তু সম্প্রতি সে তার সঙ্গে ঢের পরিমাণ মাদক ও অচেনা একজন মেয়ে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে, যা জানতে পেরে তার সঙ্গে আমার বাগবিতণ্ডা হয়। জবাবদিহিতা চাইতে গেলে, সে আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি অবধি দিয়েছে এবং যেকোনোভাবেই হোক আমার ক্ষতি করবে বলে জানায়। অগত্যা তাকে বাড়ি থেকে বের করতে স্থানীয়দের সাহায্য নিতে হয় আমাকে।”

এদিকে, ইমনের সহপাঠী ও জুনিয়ারদের থেকেও পাওয়া গেলো প্রায় একই ধরণের অভিযোগ! নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইমনের সঙ্গে একই ক্লাসে অধ্যয়ন করা তার এক বন্ধু জানান, “সে (ইমন) একজন পুরোদস্তুর ফেম এবং ড্রাগ এডিক্ট! সিম্প্যাথি গেইন করে ভাইরাল হওয়ার জন্যই এমন কাজ করেছে। আদতে সে নিজেই একজন আপাদমস্তক মাদকসেবী।”

ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলতে ইমনকে ফোন দেয়া হলেও তার ফোন নাম্বারটি বন্ধ দেখায়। অন্যদিকে, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনিও কল রিসিভ করেননি।