১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শিক্ষায় পদ্মা সেতুর চেয়ে বড় মেগাপ্রকল্প হাতে নিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, আমাদের শিক্ষায় পদ্মা সেতুর চেয়ে বড় মেগাপ্রকল্প হাতে নিতে হবে। আর সে প্রকল্প শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নয়; আমাদের শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন করতে হবে, শিক্ষার্থীদের উপকারের জন্য। কারণ শিক্ষকদের দক্ষতা, মান, অভিজ্ঞতায় যদি আমরা বিনিয়োগ করি, তা হলে শিক্ষার্থীরা বেশি উপকৃত হবে।

মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটরিয়ামে বিভাগের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার প্রধানগণের সঙ্গে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষানগরীখ্যাত রাজশাহীকে আধুনিক শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে সবাই মিলেমিশে কাজ করে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। যেহেতু রাজশাহী শহর আমাদের দেশে শিক্ষানগরী হিসেবে সুপরিচিত, তাই এখানকার শিক্ষকদের দায়িত্ব অনেক। এই শিক্ষানগরী যাতে আধুনিক শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে ওঠে, সে জন্য এখানকার শিক্ষকদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে দক্ষতা নিয়ে মানুষ হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা পরিহার করতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সংকীর্ণতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ এটি উত্তরণ করার জন্য উন্নত দেশের মতো নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলে শিক্ষার পাশাপার্শি অন্য যে কোনো ক্ষেত্রে নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের দেখতে হবে তারা কীভাবে নতুন কাজে দক্ষতা অর্জন করতে পারে এবং সেদিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রযুক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমরা সব ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে পারি।

মন্ত্রী বলেন, বাস্তব জীবন সাহেবি জীবন নয়। বাস্তব শিক্ষার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলাই জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল। শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কলেজের শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, তবে এই কঠিন কাজটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নিরলসভাবে করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, উন্নত বিশ্বে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে গিয়ে কাজ করে। কাজের পাশাপাশি শিক্ষাগ্রহণ করে। আবার অনেকে একাডেমিক শিক্ষায় ‘গ্যাপ’ দিয়ে দক্ষতা অর্জনে বিভিন্ন কাজ করে। আমাদের শিক্ষার্থীদের সে ধরনের মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের যাবতীয় সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনেন এবং তা সমাধানে আশ্বাস প্রদান করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোলেমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নেহাল আহমেদ, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. অলীউল আলমসহ বিভাগের সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ট্যাগ:

শিক্ষায় পদ্মা সেতুর চেয়ে বড় মেগাপ্রকল্প হাতে নিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ০১:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, আমাদের শিক্ষায় পদ্মা সেতুর চেয়ে বড় মেগাপ্রকল্প হাতে নিতে হবে। আর সে প্রকল্প শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নয়; আমাদের শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন করতে হবে, শিক্ষার্থীদের উপকারের জন্য। কারণ শিক্ষকদের দক্ষতা, মান, অভিজ্ঞতায় যদি আমরা বিনিয়োগ করি, তা হলে শিক্ষার্থীরা বেশি উপকৃত হবে।

মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটরিয়ামে বিভাগের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার প্রধানগণের সঙ্গে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষানগরীখ্যাত রাজশাহীকে আধুনিক শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে সবাই মিলেমিশে কাজ করে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। যেহেতু রাজশাহী শহর আমাদের দেশে শিক্ষানগরী হিসেবে সুপরিচিত, তাই এখানকার শিক্ষকদের দায়িত্ব অনেক। এই শিক্ষানগরী যাতে আধুনিক শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে ওঠে, সে জন্য এখানকার শিক্ষকদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে দক্ষতা নিয়ে মানুষ হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা পরিহার করতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সংকীর্ণতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ এটি উত্তরণ করার জন্য উন্নত দেশের মতো নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলে শিক্ষার পাশাপার্শি অন্য যে কোনো ক্ষেত্রে নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের দেখতে হবে তারা কীভাবে নতুন কাজে দক্ষতা অর্জন করতে পারে এবং সেদিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রযুক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমরা সব ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে পারি।

মন্ত্রী বলেন, বাস্তব জীবন সাহেবি জীবন নয়। বাস্তব শিক্ষার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলাই জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল। শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কলেজের শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, তবে এই কঠিন কাজটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নিরলসভাবে করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, উন্নত বিশ্বে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে গিয়ে কাজ করে। কাজের পাশাপাশি শিক্ষাগ্রহণ করে। আবার অনেকে একাডেমিক শিক্ষায় ‘গ্যাপ’ দিয়ে দক্ষতা অর্জনে বিভিন্ন কাজ করে। আমাদের শিক্ষার্থীদের সে ধরনের মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের যাবতীয় সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনেন এবং তা সমাধানে আশ্বাস প্রদান করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোলেমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নেহাল আহমেদ, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. অলীউল আলমসহ বিভাগের সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।