১১:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইতিবাচক অভ্যাস গড়ার উপায়

যে কারণে জীবনের দাঁড়িপাল্লায় পজিটিভ বিষয়ের থেকে নেগেটিভ বিষয়গুলোর ভারে নুয়ে পড়তে হয়। জীবন যাপনে পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা গেলে সফলতা লাভ করা যায়। কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা গেলে পুরো জীবনটাই ইতিবাচকভাবে চালনা করা যেতে পারে।

বিষাক্ত মানুষকে জীবনে স্থান দেয়া যাবে না: অনেকেই এমন কিছু বিষাক্ত মানুষদের দিয়ে চারপাশ ঘিরে রাখেন যারা বারবার নানা রকম দোষ ত্রুটি বের করে ছোট করে। প্রথমে বুঝতে হবে কারা শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে ভালো উপদেশ উন্নতির জন্য আর কারা আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে নিজেদেরকে বড় দেখানোর চেষ্টা করছেন। যারা অযথাই সারাক্ষণ দোষ বের করতে থাকে, নানাভাবে হেয় করার চেষ্টা করে, উচিত তাদের থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা। নেগেটিভ চিন্তা বেশিরভাগ সময়ই মাথায় আসে পারিপার্শ্বিক কারণে, যখন অন্য কেউ বারবার ছোট করে, নিজেরাও শুধু নিজেদের দোষ বের করতে থাকি।নিজেকে পরিস্থিতির শিকার মনে করবেন না: এটা সত্যি যে সবার সাথেই কমবেশি খারাপ ঘটনা ঘটে থাকে। খুব কম সময়েই সে সব পরিস্থিতির উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে। কিন্তু তাই বলে নিজেকে সব সময় সব দুর্ঘটনার শিকার মনে করামন আর শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্রত্যেকের সাথেই খারাপ কিছু ঘটতে পারে। কারও জীবনই সহজ না। অনেক সময় শুধু নিজের ক্ষতিটাই দেখা হয় ভাবা হয় পুরো পৃথিবী বিরুদ্ধে লেগে আছে। এভাবে চিন্তা না করে উচিত যতটুকুর উপর নিয়ন্ত্রণ আছে, ততটুকু ঠিক করার চেষ্টা করা। কিছু না কিছু তো বদলাতেই পারি। আর যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে উচিত সেই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া আর এমন প্রস্তুতি নেয়া যেন আগামীতে আর ততটা কষ্ট না হয়।

মনের উপর চাপ আসে এমন জায়গায় না যাওয়া:  শুনে মনে হতে পারে এটাই তো যুক্তিসম্পন্ন যে যার কাছে বা যেখান থেকে কষ্ট পাই, তাকে এড়িয়ে চলব। কিন্তু প্রায়ই এই সহজ ব্যাপারটা ভুলে যাওয়া হয়। খারাপ চিন্তা মাথায় আসলে জোর করে সেটাকে কোন ভালো চিন্তায় পরিবর্তন করতে হবে। যদি কোন গান শুনলে বা কোন জায়গায় গেলে মনের উপর চাপ পড়ে সেসব জায়গা এড়িয়ে চলতে হবে।

অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা না করা: ছোটবেলা থেকেই বেড়ে উঠি একটা প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে। শিক্ষাব্যবস্থা হোক কিংবা সমাজ হোক, সবাই যেন সারাক্ষণ বলতে থাকে- “ও এটা পারে, তোমাকেও পারতে হবে। অমুকের মতো হতে পারো না? দেখো ও কত ভালো করছে।” এসব কারণে জেনে না জেনে সারাক্ষণ নিজেকে আশপাশে সবার সাথে তুলনা করতে থাকি। এজন্য খুব সহজেই মানুষ ইতিবাচক চিন্তায় ডুবে যায়। সবার মেধা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা একদিকে না। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিও ভিন্ন। তাই লক্ষ্য রাখা উচিত কিভাবে নিজের মেধা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়। তুলনা হওয়া উচিত শুধু নিজেদের সাথেই।

ক্ষমা করতে শিখুন: কারও কোনো আচরণে আহত হলে, প্রতারিত বোধ করলে সেই মানুষের জন্য মনে ঘৃণা চেপে রাখা উচিত না। মাফ করে মনকে হালকা করে ফেলা উচিত। ঘৃণা, ঈর্ষা, অহংকার এধরনের নেতিবাচক অনুভুতি মনকে বিষাক্ত করে তোলে, নিজের শান্তি নষ্ট করে দেয়। তবে এর মানে এই না যে বারবার মানুষকে আঘাত করার সুযোগ দিতে হবে। শুধু মন থেকে তাদের অপরাধটা মাফ করে দিতে হবে এতে মানসিক এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা যাবে।

 

ট্যাগ:

ইতিবাচক অভ্যাস গড়ার উপায়

প্রকাশ: ০৬:৫১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

যে কারণে জীবনের দাঁড়িপাল্লায় পজিটিভ বিষয়ের থেকে নেগেটিভ বিষয়গুলোর ভারে নুয়ে পড়তে হয়। জীবন যাপনে পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা গেলে সফলতা লাভ করা যায়। কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা গেলে পুরো জীবনটাই ইতিবাচকভাবে চালনা করা যেতে পারে।

বিষাক্ত মানুষকে জীবনে স্থান দেয়া যাবে না: অনেকেই এমন কিছু বিষাক্ত মানুষদের দিয়ে চারপাশ ঘিরে রাখেন যারা বারবার নানা রকম দোষ ত্রুটি বের করে ছোট করে। প্রথমে বুঝতে হবে কারা শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে ভালো উপদেশ উন্নতির জন্য আর কারা আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে নিজেদেরকে বড় দেখানোর চেষ্টা করছেন। যারা অযথাই সারাক্ষণ দোষ বের করতে থাকে, নানাভাবে হেয় করার চেষ্টা করে, উচিত তাদের থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা। নেগেটিভ চিন্তা বেশিরভাগ সময়ই মাথায় আসে পারিপার্শ্বিক কারণে, যখন অন্য কেউ বারবার ছোট করে, নিজেরাও শুধু নিজেদের দোষ বের করতে থাকি।নিজেকে পরিস্থিতির শিকার মনে করবেন না: এটা সত্যি যে সবার সাথেই কমবেশি খারাপ ঘটনা ঘটে থাকে। খুব কম সময়েই সে সব পরিস্থিতির উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে। কিন্তু তাই বলে নিজেকে সব সময় সব দুর্ঘটনার শিকার মনে করামন আর শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্রত্যেকের সাথেই খারাপ কিছু ঘটতে পারে। কারও জীবনই সহজ না। অনেক সময় শুধু নিজের ক্ষতিটাই দেখা হয় ভাবা হয় পুরো পৃথিবী বিরুদ্ধে লেগে আছে। এভাবে চিন্তা না করে উচিত যতটুকুর উপর নিয়ন্ত্রণ আছে, ততটুকু ঠিক করার চেষ্টা করা। কিছু না কিছু তো বদলাতেই পারি। আর যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে উচিত সেই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া আর এমন প্রস্তুতি নেয়া যেন আগামীতে আর ততটা কষ্ট না হয়।

মনের উপর চাপ আসে এমন জায়গায় না যাওয়া:  শুনে মনে হতে পারে এটাই তো যুক্তিসম্পন্ন যে যার কাছে বা যেখান থেকে কষ্ট পাই, তাকে এড়িয়ে চলব। কিন্তু প্রায়ই এই সহজ ব্যাপারটা ভুলে যাওয়া হয়। খারাপ চিন্তা মাথায় আসলে জোর করে সেটাকে কোন ভালো চিন্তায় পরিবর্তন করতে হবে। যদি কোন গান শুনলে বা কোন জায়গায় গেলে মনের উপর চাপ পড়ে সেসব জায়গা এড়িয়ে চলতে হবে।

অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা না করা: ছোটবেলা থেকেই বেড়ে উঠি একটা প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে। শিক্ষাব্যবস্থা হোক কিংবা সমাজ হোক, সবাই যেন সারাক্ষণ বলতে থাকে- “ও এটা পারে, তোমাকেও পারতে হবে। অমুকের মতো হতে পারো না? দেখো ও কত ভালো করছে।” এসব কারণে জেনে না জেনে সারাক্ষণ নিজেকে আশপাশে সবার সাথে তুলনা করতে থাকি। এজন্য খুব সহজেই মানুষ ইতিবাচক চিন্তায় ডুবে যায়। সবার মেধা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা একদিকে না। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিও ভিন্ন। তাই লক্ষ্য রাখা উচিত কিভাবে নিজের মেধা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়। তুলনা হওয়া উচিত শুধু নিজেদের সাথেই।

ক্ষমা করতে শিখুন: কারও কোনো আচরণে আহত হলে, প্রতারিত বোধ করলে সেই মানুষের জন্য মনে ঘৃণা চেপে রাখা উচিত না। মাফ করে মনকে হালকা করে ফেলা উচিত। ঘৃণা, ঈর্ষা, অহংকার এধরনের নেতিবাচক অনুভুতি মনকে বিষাক্ত করে তোলে, নিজের শান্তি নষ্ট করে দেয়। তবে এর মানে এই না যে বারবার মানুষকে আঘাত করার সুযোগ দিতে হবে। শুধু মন থেকে তাদের অপরাধটা মাফ করে দিতে হবে এতে মানসিক এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা যাবে।