১২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গাছের কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করলেন বিজ্ঞানীরা

জাপানের বিজ্ঞানীদের একটি দল গাছেদের একে অপরের সাথে কথা বলার রিয়েল টাইম ভিডিও ফুটেজ ধারণ করেছেন।

এনডিটিভি জানিয়েছে, সম্প্রতি সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয়ের আণবিক জীববিজ্ঞানী মাসাতসুগু টয়োটার নেতৃত্বে একটি গবেষণা দলের এই উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত হয়। গবেষক দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পিএইচডি শিক্ষার্থী ইউরি আরতানি এবং পোস্টডক্টরাল গবেষক তাকুয়া উয়েমুরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, গাছপালা বায়ুবাহিত যৌগের এক গন্ধযুক্ত সূক্ষ্ম কুয়াশা নির্গত করে, যার মাধ্যমে তারা একে অপরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। এই যৌগ কাছাকাছি গাছপালাকে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।

জাপানি বিজ্ঞানীদের রেকর্ড করা ভিডিওটিতে দেখা গেছে, কীভাবে গাছপালা এই বায়বীয় সংকেতগুলো গ্রহণ করে এবং প্রতিক্রিয়া জানায়। দলটি পর্যবেক্ষণ করেছে যে কীভাবে একটি অক্ষত উদ্ভিদ কীটপতঙ্গ বা অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্থ উদ্ভিদ থেকে নির্গত জৈবযৌগগুলোর প্রতি প্রতিক্রিয়া জানায়।

গবেষণায় লেখক বলেছেন, উদ্ভিদ পোকামাকড় বা অন্যান্য উপায়ে ক্ষতিগ্রস্ত নিকটবর্তী উদ্ভিদ থেকে নির্গত উদ্বায়ী জৈবযৌগ শনাক্ত করতে সক্ষম। জৈবযৌগগুলো উদ্ভিদ অনুভব করতে পারে। প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা নিজেদের স্ব-প্রতিরক্ষা ব্য়বস্থা চালু করে দেয় অর্থাৎ নিজেকে রক্ষা করে। এই ধরনের আন্তঃউদ্ভিদ যোগাযোগ পরিবেশগত হুমকি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সহায়তা করে।

যোগাযোগটি ধারণ করতে বিজ্ঞানীরা, একটি পাত্রে কিছু টমেটো পাতা ও শুঁয়োপোকা রাখেন এবং আরেকটি পাত্রে অ্যারাবিডোপসিস থালিয়ানা নামে এক ধরণের সরিষা গাছের আগাছা রাখেন। দুটি পাত্রকে একটি বায়ু পাম্প দ্বারা পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হয়।

পরীক্ষায় দেখা যায়, শুঁয়োপোকা টমেটো গাছের পাতা খেতে শুরু করতেই অন্য গাছে তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। দুই গাছের কথাবার্তা ধরা পড়ে বায়োসেন্সরের ব্যবহারে। টমেটো পাতা থেকে অ্যারাবিডোপসিসে জৈবযৌগ ছড়িয়ে পড়ে। এই যৌগ বা ‘কম্পাউন্ড’ গ্রহণ করে অ্যারাবিডোপসিস গাছটি বুঝতে পারে যে পাশের টমেটো গাছটি আক্রান্ত। এতে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া শুরু হয় অ্যারাবিডোপসিস গাছটিতে। গাছের গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে সতর্কতা। শরীরকে সতর্ক করতে শুরু করে গাছটি।

ক্যালসিয়াম আয়নের উপস্থিতির কারণে অ্যারাবিডোপসিসের পাতায় উজ্জ্বল হলুদ বর্ণ ফুটে ওঠে। এই প্রক্রিয়া হয় বায়বীয় যৌগের আদান-প্রদানে। টয়োটা বলছেন, কখন কীভাবে উদ্ভিদ নিজেদের মধ্যে সতর্কবার্তা পাঠায় তা আবিষ্কার হল। এর থেকে প্রমাণিত যে, একটা বড় জিনিস আমাদের চোখের আড়ালে রয়েছে। গাছ সঠিক সময় নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করে। সেই তথ্য গ্রহণ করে নিজেদের সতর্ক করে।

 

ট্যাগ:

গাছের কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করলেন বিজ্ঞানীরা

প্রকাশ: ০৭:৩৯:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

জাপানের বিজ্ঞানীদের একটি দল গাছেদের একে অপরের সাথে কথা বলার রিয়েল টাইম ভিডিও ফুটেজ ধারণ করেছেন।

এনডিটিভি জানিয়েছে, সম্প্রতি সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয়ের আণবিক জীববিজ্ঞানী মাসাতসুগু টয়োটার নেতৃত্বে একটি গবেষণা দলের এই উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত হয়। গবেষক দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পিএইচডি শিক্ষার্থী ইউরি আরতানি এবং পোস্টডক্টরাল গবেষক তাকুয়া উয়েমুরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, গাছপালা বায়ুবাহিত যৌগের এক গন্ধযুক্ত সূক্ষ্ম কুয়াশা নির্গত করে, যার মাধ্যমে তারা একে অপরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। এই যৌগ কাছাকাছি গাছপালাকে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।

জাপানি বিজ্ঞানীদের রেকর্ড করা ভিডিওটিতে দেখা গেছে, কীভাবে গাছপালা এই বায়বীয় সংকেতগুলো গ্রহণ করে এবং প্রতিক্রিয়া জানায়। দলটি পর্যবেক্ষণ করেছে যে কীভাবে একটি অক্ষত উদ্ভিদ কীটপতঙ্গ বা অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্থ উদ্ভিদ থেকে নির্গত জৈবযৌগগুলোর প্রতি প্রতিক্রিয়া জানায়।

গবেষণায় লেখক বলেছেন, উদ্ভিদ পোকামাকড় বা অন্যান্য উপায়ে ক্ষতিগ্রস্ত নিকটবর্তী উদ্ভিদ থেকে নির্গত উদ্বায়ী জৈবযৌগ শনাক্ত করতে সক্ষম। জৈবযৌগগুলো উদ্ভিদ অনুভব করতে পারে। প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা নিজেদের স্ব-প্রতিরক্ষা ব্য়বস্থা চালু করে দেয় অর্থাৎ নিজেকে রক্ষা করে। এই ধরনের আন্তঃউদ্ভিদ যোগাযোগ পরিবেশগত হুমকি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সহায়তা করে।

যোগাযোগটি ধারণ করতে বিজ্ঞানীরা, একটি পাত্রে কিছু টমেটো পাতা ও শুঁয়োপোকা রাখেন এবং আরেকটি পাত্রে অ্যারাবিডোপসিস থালিয়ানা নামে এক ধরণের সরিষা গাছের আগাছা রাখেন। দুটি পাত্রকে একটি বায়ু পাম্প দ্বারা পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হয়।

পরীক্ষায় দেখা যায়, শুঁয়োপোকা টমেটো গাছের পাতা খেতে শুরু করতেই অন্য গাছে তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। দুই গাছের কথাবার্তা ধরা পড়ে বায়োসেন্সরের ব্যবহারে। টমেটো পাতা থেকে অ্যারাবিডোপসিসে জৈবযৌগ ছড়িয়ে পড়ে। এই যৌগ বা ‘কম্পাউন্ড’ গ্রহণ করে অ্যারাবিডোপসিস গাছটি বুঝতে পারে যে পাশের টমেটো গাছটি আক্রান্ত। এতে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া শুরু হয় অ্যারাবিডোপসিস গাছটিতে। গাছের গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে সতর্কতা। শরীরকে সতর্ক করতে শুরু করে গাছটি।

ক্যালসিয়াম আয়নের উপস্থিতির কারণে অ্যারাবিডোপসিসের পাতায় উজ্জ্বল হলুদ বর্ণ ফুটে ওঠে। এই প্রক্রিয়া হয় বায়বীয় যৌগের আদান-প্রদানে। টয়োটা বলছেন, কখন কীভাবে উদ্ভিদ নিজেদের মধ্যে সতর্কবার্তা পাঠায় তা আবিষ্কার হল। এর থেকে প্রমাণিত যে, একটা বড় জিনিস আমাদের চোখের আড়ালে রয়েছে। গাছ সঠিক সময় নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করে। সেই তথ্য গ্রহণ করে নিজেদের সতর্ক করে।