০১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কবর খুঁড়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করা কি জায়েজ?

প্রশ্ন: নিজের জন্য কবর খুঁড়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করা কি জায়েজ?

উত্তর: নিজের জমিতে নিজের জন্য কবরের জায়গা নির্ধারণ করা দোষের নয়। যেমন আয়েশা (রা.) রাসূল (সা.)-এর পাশে তার কবরের স্থান নির্ধারণ করেছিলেন, যা তিনি পরে হজরত ওমরকে (রা.) দিয়ে দেন। (উসায়মিন, মাজমুয়া ফাতাওয়া ১৭/৭৮)।

তবে নিজের কবর খুঁড়ে মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকা নিতান্তই বাড়াবাড়ি। এটা কোনোভাবেই ইসলাম সমর্থন করে না। কেননা কে কোথায় কিভাবে মরবে ও কোন স্থানে তার দাফন হবে, সেটি আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না (সূরা লোকমান ৩১/৩৪)।

নবি-রাসূল ও সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে এরকম কোনো আমলের প্রমাণও পাওয়া যায় না। তাছাড়া রাসূল (সা.) মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন- রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারণ সে যদি সৎকর্মশীল লোক হয়, তবে (বেঁচে থাকলে) হয়ত সে নেকির কাজ বৃদ্ধি করবে। আর যদি অন্যায়কারী (পাপি) হয়, তাহলে হয়ত সে তাওবা করবে (দীনের পথে ফিরে আসবে)।’ (বুখারি)

অন্য হাদিসে এসেছে- রাসূল সা. বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন কোনো কঠিন বিপদে পড়ে নিজের মৃত্যু কামনা না করে। যদি অগত্যা মৃত্যু কামনা করতেই হয় তাহলে সে যেন এভাবে বলে- হে আল্লাহ! আপনি আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন যতদিন পর্যন্ত আমার বেঁচে থাকাটা আমার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। অন্যথা আমাকে মৃত্যু দিন যদি আমার মৃত্যুবরণ করাটা আমার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।’ (বুখারি ৬৩৫১, মুসলিম ২৬৮০)।

সুতরাং কবর খুঁড়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করা ইসলামি শরিয়তে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ।

উত্তর দিয়েছেন- মুফতি তোফায়েল গাজালি।

ট্যাগ:

কবর খুঁড়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করা কি জায়েজ?

প্রকাশ: ০৮:০১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

প্রশ্ন: নিজের জন্য কবর খুঁড়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করা কি জায়েজ?

উত্তর: নিজের জমিতে নিজের জন্য কবরের জায়গা নির্ধারণ করা দোষের নয়। যেমন আয়েশা (রা.) রাসূল (সা.)-এর পাশে তার কবরের স্থান নির্ধারণ করেছিলেন, যা তিনি পরে হজরত ওমরকে (রা.) দিয়ে দেন। (উসায়মিন, মাজমুয়া ফাতাওয়া ১৭/৭৮)।

তবে নিজের কবর খুঁড়ে মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকা নিতান্তই বাড়াবাড়ি। এটা কোনোভাবেই ইসলাম সমর্থন করে না। কেননা কে কোথায় কিভাবে মরবে ও কোন স্থানে তার দাফন হবে, সেটি আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না (সূরা লোকমান ৩১/৩৪)।

নবি-রাসূল ও সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে এরকম কোনো আমলের প্রমাণও পাওয়া যায় না। তাছাড়া রাসূল (সা.) মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন- রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারণ সে যদি সৎকর্মশীল লোক হয়, তবে (বেঁচে থাকলে) হয়ত সে নেকির কাজ বৃদ্ধি করবে। আর যদি অন্যায়কারী (পাপি) হয়, তাহলে হয়ত সে তাওবা করবে (দীনের পথে ফিরে আসবে)।’ (বুখারি)

অন্য হাদিসে এসেছে- রাসূল সা. বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন কোনো কঠিন বিপদে পড়ে নিজের মৃত্যু কামনা না করে। যদি অগত্যা মৃত্যু কামনা করতেই হয় তাহলে সে যেন এভাবে বলে- হে আল্লাহ! আপনি আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন যতদিন পর্যন্ত আমার বেঁচে থাকাটা আমার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। অন্যথা আমাকে মৃত্যু দিন যদি আমার মৃত্যুবরণ করাটা আমার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।’ (বুখারি ৬৩৫১, মুসলিম ২৬৮০)।

সুতরাং কবর খুঁড়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করা ইসলামি শরিয়তে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ।

উত্তর দিয়েছেন- মুফতি তোফায়েল গাজালি।