১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার উপায়

আবেগ আসলে কী? এই অনুভূতির ব্যাখ্যা আসলে সবার কাছে একইরকম নয়। আবার সবার আবেগও সমান থাকে না। কেউ কেউ থাকেন যাদের খুব একটা আবেগ নেই, তারা বেশ ফুরফুরে মন নিয়ে চলতে পারেন। কারণ চলতিপথের অনেক কিছুই তাদের ভাবায় না। তাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনে প্রভাব ফেলে না। কিন্তু যে মানুষের আবেগ বেশি, তাকে পড়তে হয় মুশকিলে। কারণ তার আবেগের ভাষা সবাই বুঝতেও পারে না। এদিকে আবেগ্রান্ত মন নিয়ে তিনি কোথায় যাবেন, কী করবেন ভেবে পান না।

আবেগ কি সত্যিই নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন? সুন্দর একটি জীবন কাটানোর জন্য অবশ্যই আবেগের প্রয়োজন আছে। তবে তা বেশি হয়ে গেলে আপনার জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। জীবনে সবকিছুতে ভারসাম্য রাখা জরুরি। এমনকী আবেগের ক্ষেত্রেও। তাই আপনি যদি বুঝতে পারেন যে আপনার আবেগ কোনোভাবেই বশে আসছে না, তখন তা নিয়ন্ত্রণের জন্য করতে হবে কিছু কাজ। কী সেই কাজ? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

মাথা ঠান্ডা রাখুন : মাথা ঠান্ডা রাখতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান এমনিতেই হয়ে যাবে। তাই নিজের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি। কোনো কারণে অনেক বেশি রাগ লাগলেও মাথা ঠান্ডা রাখুন। প্রয়োজনে নিরিবিলি একটি কক্ষে চুপ করে বসে থাকুন। এ সময়ে মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলাই ভালো হবে। কারণ, চারপাশে যত প্রিয়জনই থাকুক না কেন, কিছু সময় কেবল নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে হয়। মাথা ঠান্ডা করে ভাবলে দেখবেন, আপনি যা নিয়ে এত ভাবছেন, তা আসলে আপনার এতখানি ভাবনার যোগ্য নয়।

ইয়োগা : প্রতিদিন চেষ্টা করুন সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠার। সুন্দর সকালের কিছুটা সময় ইয়োগার মতো ব্যায়ামে সময় দিন। এই ব্যায়াম আপনার মন ও মেজাজ শান্ত রাখতে কাজ করে। প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে অন্তত ১৫ মিনিট ধ্যান করুন। আবার ঘুমাতে যাওয়ার আগেও এই ধ্যান করতে পারেন। এতে আপনার আবেগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তখন আর আবেগের বশে ভুলভাল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসতে হবে না।

লিখে রাখুন : আপনার মনের কথাগুলো লিখে রাখার অভ্যাস করুন। কাউকে পড়তে দিতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। নিজের জন্য লিখে রাখুন। আপনার মনে যদি খুব বেশি আবেগ কাজ করে তাহলে সেই কথাগুলোই আবদ্ধ করে রাখুন ডায়েরি বা নোটপ্যাডে। এতে আপনার আবেগ অনেকটাই পরিণত হবে। নিজের কথাগুলো পরবর্তীতে যখন আবার নিজেই পড়বেন, তখন নিজের ভুল এবং সঠিক বিষয়গুলো অনেকটাই ধরতে পারবেন।

অতিরিক্ত কথা নয় : যত পছন্দের মানুষই সামনে থাকুক, কখনো অতিরিক্ত কথা বলবেন না। বিশেষ করে যখন আবেগ কাজ করবে তখন যত সম্ভব কম কথা বলুন। প্রিয় মানুষটির সঙ্গে নিজের আবেগ ভাগ করে নিতে পারেন, যদি সত্যিই তিনি আপনার আবেগের মূল্যায়ন করেন। অনেক সময় আবেগের মুহূর্তে মানুষ ভুল কথা বলে ফেলতে পারে বা ভুল প্রতিশ্রুতি দিতে পারে তাই এসময় অতিরিক্ত কথা এড়িয়ে চলুন।

ট্যাগ:

আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার উপায়

প্রকাশ: ১০:৫৭:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

আবেগ আসলে কী? এই অনুভূতির ব্যাখ্যা আসলে সবার কাছে একইরকম নয়। আবার সবার আবেগও সমান থাকে না। কেউ কেউ থাকেন যাদের খুব একটা আবেগ নেই, তারা বেশ ফুরফুরে মন নিয়ে চলতে পারেন। কারণ চলতিপথের অনেক কিছুই তাদের ভাবায় না। তাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনে প্রভাব ফেলে না। কিন্তু যে মানুষের আবেগ বেশি, তাকে পড়তে হয় মুশকিলে। কারণ তার আবেগের ভাষা সবাই বুঝতেও পারে না। এদিকে আবেগ্রান্ত মন নিয়ে তিনি কোথায় যাবেন, কী করবেন ভেবে পান না।

আবেগ কি সত্যিই নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন? সুন্দর একটি জীবন কাটানোর জন্য অবশ্যই আবেগের প্রয়োজন আছে। তবে তা বেশি হয়ে গেলে আপনার জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। জীবনে সবকিছুতে ভারসাম্য রাখা জরুরি। এমনকী আবেগের ক্ষেত্রেও। তাই আপনি যদি বুঝতে পারেন যে আপনার আবেগ কোনোভাবেই বশে আসছে না, তখন তা নিয়ন্ত্রণের জন্য করতে হবে কিছু কাজ। কী সেই কাজ? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

মাথা ঠান্ডা রাখুন : মাথা ঠান্ডা রাখতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান এমনিতেই হয়ে যাবে। তাই নিজের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি। কোনো কারণে অনেক বেশি রাগ লাগলেও মাথা ঠান্ডা রাখুন। প্রয়োজনে নিরিবিলি একটি কক্ষে চুপ করে বসে থাকুন। এ সময়ে মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলাই ভালো হবে। কারণ, চারপাশে যত প্রিয়জনই থাকুক না কেন, কিছু সময় কেবল নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে হয়। মাথা ঠান্ডা করে ভাবলে দেখবেন, আপনি যা নিয়ে এত ভাবছেন, তা আসলে আপনার এতখানি ভাবনার যোগ্য নয়।

ইয়োগা : প্রতিদিন চেষ্টা করুন সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠার। সুন্দর সকালের কিছুটা সময় ইয়োগার মতো ব্যায়ামে সময় দিন। এই ব্যায়াম আপনার মন ও মেজাজ শান্ত রাখতে কাজ করে। প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে অন্তত ১৫ মিনিট ধ্যান করুন। আবার ঘুমাতে যাওয়ার আগেও এই ধ্যান করতে পারেন। এতে আপনার আবেগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তখন আর আবেগের বশে ভুলভাল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসতে হবে না।

লিখে রাখুন : আপনার মনের কথাগুলো লিখে রাখার অভ্যাস করুন। কাউকে পড়তে দিতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। নিজের জন্য লিখে রাখুন। আপনার মনে যদি খুব বেশি আবেগ কাজ করে তাহলে সেই কথাগুলোই আবদ্ধ করে রাখুন ডায়েরি বা নোটপ্যাডে। এতে আপনার আবেগ অনেকটাই পরিণত হবে। নিজের কথাগুলো পরবর্তীতে যখন আবার নিজেই পড়বেন, তখন নিজের ভুল এবং সঠিক বিষয়গুলো অনেকটাই ধরতে পারবেন।

অতিরিক্ত কথা নয় : যত পছন্দের মানুষই সামনে থাকুক, কখনো অতিরিক্ত কথা বলবেন না। বিশেষ করে যখন আবেগ কাজ করবে তখন যত সম্ভব কম কথা বলুন। প্রিয় মানুষটির সঙ্গে নিজের আবেগ ভাগ করে নিতে পারেন, যদি সত্যিই তিনি আপনার আবেগের মূল্যায়ন করেন। অনেক সময় আবেগের মুহূর্তে মানুষ ভুল কথা বলে ফেলতে পারে বা ভুল প্রতিশ্রুতি দিতে পারে তাই এসময় অতিরিক্ত কথা এড়িয়ে চলুন।