১১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুসিক উপনির্বাচনে প্রতীক পেলেন ৪ মেয়র পদপ্রার্থী

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) উপনির্বাচনে মেয়র পদের চার প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কুসিকের মেয়র পদের উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন প্রার্থীদের মধ্যে শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রতীক বরাদ্দ দেন।

ভোটারদের মতে- কুসিকের উপনির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দুইজন নেতা এবং বিএনপির সাবেক দুইজন নেতা তথা চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী লড়ছেন। এঁদের সবাই হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন।

যার কারণে এ সিটিতে চারজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ৯ মার্চ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএমে) মাধ্যমে কুমিল্লা সিটিতে মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের কুসিক নির্বাচনে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি।

চার প্রার্থীর মধ্যে কুমিল্লা সিটির সাবেক দুইবারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে তাঁর পছন্দের টেবিল ঘড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২২ সালের ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মেয়র পদে লড়ে বিএনপি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হয়েছিলেন বিএনপিপন্থী প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু। ওই নির্বাচনেও সাক্কুর একই প্রতীক ছিল। মনিরুল হক সাক্কু বহিষ্কারের আগে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. তাহসীন বাহার সূচনা পেয়েছেন তাঁর পছন্দের বাস প্রতীক। সূচনা কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের কন্যা।

কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার পেয়েছেন তাঁর পছন্দের ঘোড়া প্রতীক। ২০২২ সালের ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মেয়র পদে লড়ে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হয়েছিলেন তিনিও। ওই নির্বাচনেও কায়সার একই প্রতীক নিয়ে লড়াই করেন।
কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি নুর-উর রহমান মাহমুদ তানিম পেয়েছেন তাঁর পছন্দের হাতি প্রতীক।

সরেজমিন দেখা গেছে, শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে মেয়র পদে চারজন প্রার্থীকে কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক দুইবারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর পক্ষে প্রতীক বরাদ্দ নেন অ্যাডভোকেট মো. মোস্তফা। নিজাম উদ্দিন কায়সার নিজেই তার ঘোড়া প্রতীক গ্রহণ করেন। ডা. তাহসিন বাহার সূচনার পক্ষে বাস প্রতীক গ্রহণ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল্লাহ খোকন। নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম নিজেই তাঁর হাতি প্রতীক গ্রহণ করেন।

প্রতীক বরাদ্দের সময় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চালাতে পারবেন। আজ শুক্রবার থেকেই প্রার্থীদের আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে প্রতি তিন ওয়ার্ডে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা। এ ছাড়া সভা, উঠান বৈঠক করতে অবশ্যই পুলিশকে জানাতে হবে। মাইক ব্যবহারে অনুমতি নিতে হবে। কোনোভাবেই এসএসসি পরীক্ষা ব্যাহত হয়, এমন কোনো প্রচারণা চালানো যাবে না।

রিটার্নিং অফিসার আরো বলেন, দুপুর ২টা থেকে প্রতি ওয়ার্ডে একটি মাইক ব্যবহার করা যাবে। কোথাও কোনো খাবার ও পানীয় বিতরণের সুযোগ নেই। উঠান বৈঠক, পথসভা অবশ্যই পুলিশকে জানাতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না এবং মনিটরিং কমিটিতে প্রার্থীদের প্রতিনিধি থাকবে।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০২২ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) তৃতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মারা যান তিনি। তাঁর মৃত্যুতে ১৮ ডিসেম্বর মেয়রের পদ শূন্য হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

কুসিক উপনির্বাচনে প্রতীক পেলেন ৪ মেয়র পদপ্রার্থী

প্রকাশ: ১০:২৯:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) উপনির্বাচনে মেয়র পদের চার প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কুসিকের মেয়র পদের উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন প্রার্থীদের মধ্যে শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রতীক বরাদ্দ দেন।

ভোটারদের মতে- কুসিকের উপনির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দুইজন নেতা এবং বিএনপির সাবেক দুইজন নেতা তথা চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী লড়ছেন। এঁদের সবাই হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন।

যার কারণে এ সিটিতে চারজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ৯ মার্চ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএমে) মাধ্যমে কুমিল্লা সিটিতে মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের কুসিক নির্বাচনে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি।

চার প্রার্থীর মধ্যে কুমিল্লা সিটির সাবেক দুইবারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে তাঁর পছন্দের টেবিল ঘড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২২ সালের ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মেয়র পদে লড়ে বিএনপি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হয়েছিলেন বিএনপিপন্থী প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু। ওই নির্বাচনেও সাক্কুর একই প্রতীক ছিল। মনিরুল হক সাক্কু বহিষ্কারের আগে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. তাহসীন বাহার সূচনা পেয়েছেন তাঁর পছন্দের বাস প্রতীক। সূচনা কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের কন্যা।

কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার পেয়েছেন তাঁর পছন্দের ঘোড়া প্রতীক। ২০২২ সালের ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মেয়র পদে লড়ে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হয়েছিলেন তিনিও। ওই নির্বাচনেও কায়সার একই প্রতীক নিয়ে লড়াই করেন।
কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি নুর-উর রহমান মাহমুদ তানিম পেয়েছেন তাঁর পছন্দের হাতি প্রতীক।

সরেজমিন দেখা গেছে, শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে মেয়র পদে চারজন প্রার্থীকে কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক দুইবারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর পক্ষে প্রতীক বরাদ্দ নেন অ্যাডভোকেট মো. মোস্তফা। নিজাম উদ্দিন কায়সার নিজেই তার ঘোড়া প্রতীক গ্রহণ করেন। ডা. তাহসিন বাহার সূচনার পক্ষে বাস প্রতীক গ্রহণ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল্লাহ খোকন। নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম নিজেই তাঁর হাতি প্রতীক গ্রহণ করেন।

প্রতীক বরাদ্দের সময় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চালাতে পারবেন। আজ শুক্রবার থেকেই প্রার্থীদের আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে প্রতি তিন ওয়ার্ডে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা। এ ছাড়া সভা, উঠান বৈঠক করতে অবশ্যই পুলিশকে জানাতে হবে। মাইক ব্যবহারে অনুমতি নিতে হবে। কোনোভাবেই এসএসসি পরীক্ষা ব্যাহত হয়, এমন কোনো প্রচারণা চালানো যাবে না।

রিটার্নিং অফিসার আরো বলেন, দুপুর ২টা থেকে প্রতি ওয়ার্ডে একটি মাইক ব্যবহার করা যাবে। কোথাও কোনো খাবার ও পানীয় বিতরণের সুযোগ নেই। উঠান বৈঠক, পথসভা অবশ্যই পুলিশকে জানাতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না এবং মনিটরিং কমিটিতে প্রার্থীদের প্রতিনিধি থাকবে।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০২২ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) তৃতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মারা যান তিনি। তাঁর মৃত্যুতে ১৮ ডিসেম্বর মেয়রের পদ শূন্য হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।