১২:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে জোয়ারে প্লাবিত ২১ গ্রাম

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কক্সবাজার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরাটেক, কুতুবদিয়াপাড়া, সমিতিপাড়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নুনিয়াছটাসহ অন্তত ২১টি গ্রাম। এসব গ্রামের হাজারো মানুষ গৃহপালিত প্রাণী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, কাপড়চোপড় নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে শহরের দিকে ছুটছে। উপকূলের মানুষের আশ্রয়ের জন্য শহরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাবলিক হল ও কিছু হোটেল খুলে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি, সারা দিন থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে থাকে। সকাল থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এলাকায় প্রচারণা চালানো হলেও তেমন সাড়া মেলেনি। তবে বিকেল চারটার পর থেকে উপকূলের লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রের উদ্দেশে বাড়িঘর ছাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটে চলা মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে কক্সবাজার উপকূলকে ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রের পানির উচ্চতা সর্বোচ্চ ১২ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে এলাকা প্লাবিত হতে পারে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ওঠানামা সারা দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়।

বিকেলে পৌরসভার নাজিরারটেক, কুতুবদিয়াপাড়া, সমিতিপাড়া এলাকা পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। তাঁরা উপকূলের বাসিন্দাদের দ্রুত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে অনুরোধ জানান।

নাজিরারটেক উপকূলে শুঁটকি উৎপাদনের মহাল রয়েছে প্রায় ৭০০টি। জোয়ারের পানিতে ইতিমধ্যে ৩০০টির বেশি মহাল পানিতে ডুবে গেছে। বাসিন্যাপাড়া, মোস্তাইক্যাপাড়া, বন্দরপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, খুদিয়ারটেক পাড়া, সমিতিপাড়ার শত শত ঘরবাড়ি পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। এসব ঘরবাড়ির লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাগরে জোয়ার শুরু হওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে। নাজিরারটেক উপকূলসহ জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ওই সব এলাকার মানুষ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত কক্সবাজার পৌরসভাসহ জেলার ৯টি উপজেলায় অন্তত দুই লাখ মানুষ বিভিন্ন কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। আরও তিন লাখ মানুষকে সরিয়ে আনার কাজ চলছে। এ জন্য ৬৩৮টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও শতাধিক বহুতল ভবনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে। আশ্রিতদের জন্য শুকনো খাবার, খাওয়ার পানি, ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সিপিপি ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ১০ হাজার ৮০০ জন স্বেচ্ছাসেবী মাঠে তৎপর রয়েছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ
আজ সন্ধ্যা ছয়টায় কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়া বাজার সড়কে বৃদ্ধ মা ও তিন সন্তানকে নিয়ে বাজারের পূর্ব পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ির অপেক্ষা করছিলেন চল্লিশোর্ধ্ব নারী কুলসুমা বেগম। সঙ্গে দুটি ছাগল ও কয়েকটি মুরগি। বাড়ি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্যাপাড়াতে। পাঁচ বছর আগে সাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ হন তাঁর স্বামী। সেই থেকে নাজিরারটেক শুঁটকিমহালে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।

কুলসুমা বেগম (৪৫) বলেন, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে পরিবারের পাঁচজনকে হারান তিনি। জীবনের পুরোটা সময় কেটেছে তাঁর ঝড়–জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে সংগ্রামে। এখনো সেই সংগ্রাম চলছে।

দেখা গেছে, নাজিরারটেক উপকূলের মানুষ গরু ছাগলসহ গৃহপালিত পশু, টেলিভিশন, ফ্রিজ, কাপড়চোপড় নিয়ে শহরের দিকে ছুটছেন। অবস্থাসম্পন্ন মানুষ পরিবার নিয়ে হোটেলে উঠছেন। কেউ হেঁটে, কেউ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক-টমটম, খোলা জিপ ও মিনি ট্রাকে শহরে যাচ্ছেন। অধিকাংশ নারী-শিশু। উপকূলে যাতায়াতের একমাত্র প্রধান সড়কের সমিতিপাড়ার দেড় কিলোমিটার এলাকা জোয়ারের পানি ডুবে থাকার যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। তাতে বয়স্ক মানুষ ও নারী শিশুদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকতার কামাল জানান, ঘূর্ণিঝড় এলাকায় শক্ত প্রভাব না ফেললেও রাতের জোয়ারে মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে, এ শঙ্কায় ওয়ার্ডের ১৮টি গ্রাম থেকে সাত হাজারের বেশি মানুষকে শহরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে সরানো হয়েছে। আরও ছয় হাজার মানুষকে সরানো হবে। ঘর পাহারার জন্য একজন করে পুরুষ রেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষের এই ওয়ার্ডে একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রও নেই।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শহরের পাবলিক হল, জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পাশের পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরী উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, হাজারো মানুষ রাতযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বেশির ভাগ নারী ও শিশু। খাওয়ার পানি, শৌচাগার ব্যবহার নিয়ে নারী-শিশুদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ অন্যান্য উপকূলের লোকজনও বিকেল চারটা থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। জরুরি সেবা কার্যক্রমে অংশ নিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।

ট্যাগ:

কক্সবাজারে জোয়ারে প্লাবিত ২১ গ্রাম

প্রকাশ: ১১:২৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কক্সবাজার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরাটেক, কুতুবদিয়াপাড়া, সমিতিপাড়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নুনিয়াছটাসহ অন্তত ২১টি গ্রাম। এসব গ্রামের হাজারো মানুষ গৃহপালিত প্রাণী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, কাপড়চোপড় নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে শহরের দিকে ছুটছে। উপকূলের মানুষের আশ্রয়ের জন্য শহরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাবলিক হল ও কিছু হোটেল খুলে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি, সারা দিন থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে থাকে। সকাল থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এলাকায় প্রচারণা চালানো হলেও তেমন সাড়া মেলেনি। তবে বিকেল চারটার পর থেকে উপকূলের লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রের উদ্দেশে বাড়িঘর ছাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটে চলা মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে কক্সবাজার উপকূলকে ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রের পানির উচ্চতা সর্বোচ্চ ১২ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে এলাকা প্লাবিত হতে পারে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ওঠানামা সারা দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়।

বিকেলে পৌরসভার নাজিরারটেক, কুতুবদিয়াপাড়া, সমিতিপাড়া এলাকা পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। তাঁরা উপকূলের বাসিন্দাদের দ্রুত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে অনুরোধ জানান।

নাজিরারটেক উপকূলে শুঁটকি উৎপাদনের মহাল রয়েছে প্রায় ৭০০টি। জোয়ারের পানিতে ইতিমধ্যে ৩০০টির বেশি মহাল পানিতে ডুবে গেছে। বাসিন্যাপাড়া, মোস্তাইক্যাপাড়া, বন্দরপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, খুদিয়ারটেক পাড়া, সমিতিপাড়ার শত শত ঘরবাড়ি পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। এসব ঘরবাড়ির লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাগরে জোয়ার শুরু হওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে। নাজিরারটেক উপকূলসহ জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ওই সব এলাকার মানুষ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত কক্সবাজার পৌরসভাসহ জেলার ৯টি উপজেলায় অন্তত দুই লাখ মানুষ বিভিন্ন কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। আরও তিন লাখ মানুষকে সরিয়ে আনার কাজ চলছে। এ জন্য ৬৩৮টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও শতাধিক বহুতল ভবনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে। আশ্রিতদের জন্য শুকনো খাবার, খাওয়ার পানি, ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সিপিপি ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ১০ হাজার ৮০০ জন স্বেচ্ছাসেবী মাঠে তৎপর রয়েছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ
আজ সন্ধ্যা ছয়টায় কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়া বাজার সড়কে বৃদ্ধ মা ও তিন সন্তানকে নিয়ে বাজারের পূর্ব পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ির অপেক্ষা করছিলেন চল্লিশোর্ধ্ব নারী কুলসুমা বেগম। সঙ্গে দুটি ছাগল ও কয়েকটি মুরগি। বাড়ি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্যাপাড়াতে। পাঁচ বছর আগে সাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ হন তাঁর স্বামী। সেই থেকে নাজিরারটেক শুঁটকিমহালে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।

কুলসুমা বেগম (৪৫) বলেন, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে পরিবারের পাঁচজনকে হারান তিনি। জীবনের পুরোটা সময় কেটেছে তাঁর ঝড়–জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে সংগ্রামে। এখনো সেই সংগ্রাম চলছে।

দেখা গেছে, নাজিরারটেক উপকূলের মানুষ গরু ছাগলসহ গৃহপালিত পশু, টেলিভিশন, ফ্রিজ, কাপড়চোপড় নিয়ে শহরের দিকে ছুটছেন। অবস্থাসম্পন্ন মানুষ পরিবার নিয়ে হোটেলে উঠছেন। কেউ হেঁটে, কেউ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক-টমটম, খোলা জিপ ও মিনি ট্রাকে শহরে যাচ্ছেন। অধিকাংশ নারী-শিশু। উপকূলে যাতায়াতের একমাত্র প্রধান সড়কের সমিতিপাড়ার দেড় কিলোমিটার এলাকা জোয়ারের পানি ডুবে থাকার যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। তাতে বয়স্ক মানুষ ও নারী শিশুদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকতার কামাল জানান, ঘূর্ণিঝড় এলাকায় শক্ত প্রভাব না ফেললেও রাতের জোয়ারে মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে, এ শঙ্কায় ওয়ার্ডের ১৮টি গ্রাম থেকে সাত হাজারের বেশি মানুষকে শহরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে সরানো হয়েছে। আরও ছয় হাজার মানুষকে সরানো হবে। ঘর পাহারার জন্য একজন করে পুরুষ রেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষের এই ওয়ার্ডে একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রও নেই।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শহরের পাবলিক হল, জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পাশের পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরী উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, হাজারো মানুষ রাতযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বেশির ভাগ নারী ও শিশু। খাওয়ার পানি, শৌচাগার ব্যবহার নিয়ে নারী-শিশুদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ অন্যান্য উপকূলের লোকজনও বিকেল চারটা থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। জরুরি সেবা কার্যক্রমে অংশ নিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।